চিন–ভারত ‌সীমান্ত সংঘাত নিয়ে কি প্রতিক্রিয়া বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলির, আসুন জেনে নিই

চিন–ভারত ‌সীমান্ত সংঘাত নিয়ে কি প্রতিক্রিয়া বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলির, আসুন জেনে নিই

‌গত পাঁচ দশকের মধ্যে ভারতীয় ও চিনা সেনার মধ্যে এ ধরনের খারাপ সংঘর্ষ মনে হয় আর কখনই হয়নি। সোমবার রাতে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় দুই দেশের সীমান্ত সংঘর্ষ চলাকালীন ভারতীয়দের ২০ সেনা নিহত হয়। চিনের পক্ষ থেকেও তাদের প্রায় ৪০ জন সেনা মারা গিয়েছে বলে জানা যায়। কিছুদিন ধরে চলা এই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে অশান্তি যে রক্তারক্তি কাণ্ডে পৌঁছাবে তা অনেকেই ভাবেনি, সোমবারের এই ঘটনা সকলকেই বিস্মিত করেছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত হয়েছে খবর

নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত হয়েছে খবর

এই সংঘর্ষে কম্যান্ডিং অফিসার সহ ২০ জন ভারতীয় সেনার মৃত্যুর পর বিভিন্ন মহল থেকে এই সংঘর্ষ নিয়ে প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে। ভারত-চিন সীমান্তের অশান্তির খবর বিদেশি সংবাদমাধ্যমেও ঢালাও করে প্রকাশিত হয়। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক খবরে লেখা হয়, ‘ধিকিধিকি করে জ্বলা দীর্ঘ সংঘর্ষ শেষে বিরাট আকার ধারণ করল, বিশেষ করে চিন তাদের পেশিশক্তি ব্যবহার করে কামান, সাঁজোয়া বাহিনী, ট্রাক ও খননকারীদের প্রেরণ করেছিল। এনওয়াইটিতে আরও বলা হয়েছে, ‘‌উভয় দেশ এবং তাদের জাতীয় নেতারা, চিনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ক্রমবর্ধমান দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছেন যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিটকে যাওয়া সংঘাতের প্রকৃত ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।'‌

কি বলছে ওয়াশিংটন পোস্ট

কি বলছে ওয়াশিংটন পোস্ট

ওয়াশিংটন পোস্টে বলা হয়েছে, ‘বিশ্বের দুই সবচেয়ে জনবহুল দেশ, ভারত এবং চিন উভয়ই উদীয়মান শক্তি যারা একে অপরকে যুদ্ধের দৃষ্টিতে দেখে। ‌১৯৬২ সালেও এই দুই দেশের মধ্যে অশান্তির সমাধান হয়েছিল আলোচনার মাধ্যমে, যুদ্ধের ঝুঁকি নিয়ে নয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহে যদিও এই দুই দেশের মধ্যে ফের অশান্তি তুঙ্গে উঠেছে। ভারতীয় ও চিন সেনাবাহিনী তাদের ২,২০০ মাইল সীমান্তের দুই পয়েন্টে কয়েকজন আহতকে রেখে ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ে পড়ে।'‌

 বিবিসির বিশ্লেষণ

বিবিসির বিশ্লেষণ

ভারত-চিন সীমান্তের মধ্যে অশান্তি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বিবিসি তাদের খবরের শিরোনামই দিয়েছে, ‘‌ভারত-চিন সামরিক সংঘাত: কার শক্তি কতটা, কোন দেশ কার পক্ষ নেবে‌'‌। বিবিসি এরপর লেখে, ‘‌পারমানবিক সশস্ত্র দুই প্রতিবেশি দেশের মুখোমিখি সংঘর্ষ ইতিহাসে আগেও রচিত রয়েছে। খুব দুর্বলভাবে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (‌এলএসি)‌ দিয়ে দুই দেশের জায়গা ভাগ করে দেওয়া হয়েছে, তবুও ৩,৪৪০ কিলোমিটার (২,১০০ মাইল) এরও বেশি অংশ জুড়ে আঞ্চলিক দাবি নিয়েই এই দুই দেশের প্রকৃত লড়াই। দুই দেশের সীমান্ত টহলদারি করার সময় মাঝে মাঝেই তারা ছোট খাটো সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে পড়ছিল। কিন্তু গত চার দশকে কোনও গুলির বিনিময় হয়নি এই দুই দেশের পক্ষ থেকে। কিন্তু গত একমাসের বেশি ধরে চলা এই অশান্তি এবং সম্প্রতি হওয়া এই সংঘর্ষ অনেককেই হতবাক করেছে।'‌

গার্ডিয়ানের বক্তব্য

গার্ডিয়ানের বক্তব্য

দ্য গার্ডিয়ান বলেছে, ‘‌গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সীমান্তের তিনটি এলাকাতে চিনা এবং ভারতীয় সৈন্যরা নিজেদের শক্তি জোরদার করেছে। ভারত এবং চিনের মধ্যে যদিও সীমান্ত চিহ্নিতকরণ হয়নি, দু‌'‌পক্ষের মধ্যে কয়েকবার আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা হয়েছিল যে বর্তমানে যে পরিস্থিতি লঙ্ঘন করা হবে না। এখন সোমবার রাতে যে ঘটনা ঘটেছে সে সম্পর্কে চিনা এবং ভারতীয়, দু'‌পক্ষের বক্তব্য একেবারে পরস্পর বিরোধী। দুই দেশেরই দাবি যে অন্য পক্ষের সেনাবাহিনী তাদের আগের অবস্থান থেকে সামনে এগিয়ে এসে ভূমি দখল করেছেন এবং এবং সেকারণেই হাতাহাতি-মারামারি হয়েছে।'‌

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+