হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা বন্ধ করতে তৎপর ইউরোপের কয়েকটি দেশ, সঙ্গী জাপানও
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিপিং রুটে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল করতে যৌথ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে পাঁচটি ইউরোপীয় দেশ ও জাপান। বাণিজ্যিক জাহাজ ও অসামরিক পরিকাঠামোয় ইরানের হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে তাঁদের এই যৌথ বিবৃতিতে।
অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলপিজি) জন্য বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হল হরমুজ প্রণালী। এই পথে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস এবং জাপান সম্মিলিতভাবে পদক্ষেপ করতে প্রস্তুত। সম্প্রতি ইরান বাণিজ্যিক জাহাজগুলির ওপর ড্রোন ও বিস্ফোরক বোট দ্বারা বারবার আক্রমণ চালিয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে।

হামলাগুলি জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণরূপে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে এবং শত শত জাহাজ প্রণালীর বাইরে আটকে পড়েছে। এর ফলে ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশে সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, দেশগুলি জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশগুলির সাথে উৎপাদন বাড়াতে এবং বাজারের ওপর চাপ কমাতে কাজ করবে বলে জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "আমরা হরমুজ প্রণালীর নিরাপদ চলাচলের জন্য উপযুক্ত প্রচেষ্টায় অবদান রাখতে প্রস্তুত।"
ইজরায়েলি আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় ইরান পারস্য উপসাগর জুড়ে কাতার ও সৌদি আরবের প্রধান তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলিতে প্রতিশোধমূলক হামলা চালালে উত্তেজনা আরও বাড়ে। কাতারএনার্জির সিইও রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এই হামলায় কাতারের মোট এলএনজি রপ্তানি সক্ষমতার ১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বার্ষিক প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার রাজস্ব ক্ষতি হওয়ার অনুমান করা হচ্ছে এবং ইউরোপ ও এশিয়ার সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য ১.২৮ কোটি টন এলএনজি উৎপাদন বন্ধ থাকবে।
যৌথ বিবৃতিতে নিরস্ত্র বাণিজ্যিক জাহাজ এবং তেল ও গ্যাস সুবিধাসহ অসামরিক পরিকাঠামোয় ইরানের হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "পারস্য উপসাগরে নিরস্ত্র বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।" ইরানকে অবিলম্বে বাণিজ্যিক শিপিং ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলা হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দেশগুলি সতর্ক করে বলেছে যে, "ইরানের কার্যকলাপের প্রভাব বিশ্বের সকল অঞ্চলের মানুষ, বিশেষত সবচেয়ে অরক্ষিতদের দ্বারা অনুভূত হবে।" তারা আরও উল্লেখ করেছে যে শিপিংয়ে ব্যাঘাত এবং জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি। তাই অসামরিক পরিকাঠামোয় হামলার "স্থগিতাদেশ" দাবি করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications