বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা, বিএসএফের গুলিতে মৃত্যু হিন্দু কিশোরীর
বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের উৎখাতের পরে একমাস অতিক্রান্ত। প্রথমের দিকে সেখানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপরে টানা আক্রমণের খবর আসলেও, এখন তা আসছে কম। তবে বূহু মানুষ ভীত-সন্ত্রস্ত। এঁদের অনেকেই পালিয়ে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
মেধালয় হোক কিংবা ত্রিপুরা বা পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে নজরদারি চালাচ্ছে বিএসএফ। যেসব জায়গায় এখনও কাঁটাতারের বেড়া নেই, সেই সব জায়গায় চলছে বাড়তি নজরদারি। এরই মধ্যে বিএসএফের গুলিতে এক কিশোরীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিএসএফের দাবি, ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিএসএপ থামানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়, তারপরেই গুলি চালায় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী।

এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনায় প্রায় ৪৫ ঘন্টা পরে মঙ্গলবার গভীর রাতে বাংলাদেশের কিশোরীর দেব বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের হাতে তুলে দেয় বিএসএফ। জানা গিয়েছে, কিশোরীর নাম স্বর্ণা দাস। দেহ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করে ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক বিনয়ভূষণ রায় বলেছে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরে দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে বিজিবির সেক্টর কমান্ডান্ট লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিজানুর রহমান শিকদার জানিয়েছে, গত রবিবার রাতে কুলাউড়া উপজেলা থেকে ভারতে ঢোকার চেষ্টা করেন ওই কিশোরী-সহ অন্যরা। তিনি আরও জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে ফ্ল্যাগ মিটিং ডাকা হয়েছে। ওই কিশোরী পশ্চিম জুড়ি ইউনিয়নের জুড়ি উপজেলার কালনিগার গ্রামের বাসিন্দা পরেন্দ্র দাসের মেয়ে স্বর্ণা দাস। পরেন্দ্র দাস জানিয়েছে, মেয়ে স্বর্ণা ও তার মা ত্রিপুরায় থাকা তাদের বড় ছেলের সঙ্গে দেখা করতে ভারতে ঢোকার চেষ্টা করেছিল। এব্যাপারে স্থানীয় দুই দালালের সাহায্যও নেওয়া হয়।
রবিবার রাত নটা নাগাদ ভারতীয় সীমান্তের কাছে পৌঁছলে বিএসএফ গুলি চালায়, সেখানেই মৃত্যু হয় স্বর্ণার। গুলিবিদ্ধ হয়ে অল্পের জন্য রক্ষা পায় স্বর্ণার মা। এই ঘটনায় দুই দেশেই ক্ষোভ ছড়িয়েছে। সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications