Hindenburg Shutdown: আদানিকাণ্ডে তোলপাড় করা সেই হিন্ডেনবার্গ এবার পাততাড়ি গোটাচ্ছে, নেপথ্যে কী কারণ?
Hindenburg Shutdown: বন্ধ হতে চলেছে হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ (Hindenburg research)। শিল্পপতি গৌতম আদানি-সহ গোটা আদানি গোষ্ঠীর (Adani Group) বিরুদ্ধে সাম্প্রতিককালে ভূরি ভূরি অভিযোগ এনেছিল এই মার্কিন শর্ট সেলিং ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত গবেষণাকারী সংস্থা। ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের। দীর্ঘ ৮ বছরের পথ চলায় এবারে ইতি টানতে চলেছে সংস্থা। বুধবার এমনটাই ঘোষণা করলেন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা নেট অ্যান্ডারসন (Nate Anderson)।
এক্স হ্যান্ডেলে আবেগঘন পোস্টে অ্যান্ডারসন জানান, "গত বছরের শেষ থেকেই পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও গোটা টিমকে জানিয়েছিলাম সিদ্ধান্তের কথা। অবশেষে হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ বন্ধের (Disbanded) সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বর্তমানে যে সমস্ত কাজ চলছে, তা শেষ করার পরই সংস্থা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। সংস্থার রেগুলেটরদের হাতে মামলাগুলি হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে। যার শেষ দিন আজই।"

গত কয়েক বছরে আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় এনেছে হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ। যদিও সংস্থার ওয়েবসাইটে একটি নোটে বলা হয়েছে, কোনও নির্দিষ্ট হুমকি বা ব্যক্তিগত কোনও কারণে হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ বন্ধ করা হচ্ছে না। বরং অ্যান্ডারসন জানিয়েছেন, গবেষণার কাজে ব্যস্ত থাকতে গিয়ে জীবনে অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তিনি। পরিবার পরিজনদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেননি। অ্যান্ডারসনের মতে, হিন্ডেনবার্গই তার জীবনের সবকিছু নয়, একটা অধ্যায় মাত্র।
আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক রিপোর্ট এনেছিল হিন্ডেনবার্গ। তাদের দাবি ছিল, বিদেশে বেনামি সংস্থা খুলে ভুয়ো চাহিদা সৃষ্টি করে শেয়ারের দাম চড়িয়ে নিজেদের শেয়ার নিজেরাই কিনে নিত। যদিও সেই রিপোর্ট মিথ্যে বলে প্রথম থেকেই দাবি করে এসেছে আদানি গোষ্ঠী। শিল্পগোষ্ঠীকে কালিমালিপ্ত করতেই হিন্ডেনবার্গ ওই রিপোর্ট দেয় বলে দাবি করে আদানিরা। হিন্ডেনবার্গের ওই রিপোর্টের পর কোটি কোটি ডলার ক্ষতিরও সম্মুখীন হয় আদানি গোষ্ঠী।
পরে সেবিকে নিয়েও বিস্ফোরক তথ্য দেয় হিন্ডেনবার্গ। সেবি প্রধান মাধবী পুরী বুচ ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনে সংস্থা। ২০২৪ সালে একটি রিপোর্টে বলা হয়, আদানিদের সঙ্গে যুক্ত বারমুডা ও মরিশাসের ফান্ডে বিনিয়োগ করেছিলেন সেবি প্রধান ও তাঁর স্বামী। তদন্ত এড়াতে মাধবীর স্বামী নিজের নামে বিনিয়োগ করার আবেদন জানিয়েছিলেন বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয় রিপোর্টে। চরিত্র হননের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে পাল্টা অভিযোগ করেন সেবি প্রধান।
অবশেষে পাততাড়ি গুটিয়ে ফেলছে হিন্ডেনবার্গ। সংস্থার প্রথম দিকের লড়াই নিয়ে এদিন অ্যান্ডারসন বলেন, কাজের প্রতি খুবই আকৃষ্ট হয়েছিলাম। কতটা সফল হব সেই নিয়ে সন্দিহান ছিলাম। ৪ ঘণ্টা ঘুমিয়ে কাজ করতে পারি না। সংস্থার শুরুর দিকে বেশকিছু উত্থানপতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল বলেও জানান তিনি। অ্যান্ডারসন বলেন, তবে স্থির হয়ে বসে থাকিনি, কারণ সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়াই ছিল একমাত্র বিকল্প উপায়।












Click it and Unblock the Notifications