হাদির হত্যাকাণ্ডে ‘ভারত যোগ' প্রসঙ্গ উড়িয়ে দিলেন শেখ হাসিনা, দিলেন কড়া প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশের ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত ঢাকা দিল্লি সম্পর্কের অঙ্গন। এর মাঝেই নীরবতা ভেঙে সরব হলেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জানালেন হাদির মৃত্যু কোনো বিদেশি চক্রান্তের নয়, বরং অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে চলা অরাজকতা ও নির্বাচনী সহিংসতার ফল।
হাসিনার কথায়, "শরিফ ওসমান হাদির নির্মম হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার সরাসরি পরিণতি। আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে, দেশজুড়ে সহিংসতা চলছে এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই এমন ঘটনা ঘটেছে।"

তিনি আরও দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। মৌলবাদী গোষ্ঠী হাদির মৃত্যুকে "চরমপন্থী মতাদর্শ ছড়ানোর হাতিয়ার ও উত্তেজনা বাড়ানোর উপাদান" হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।
সম্প্রতি ঢাকার একাধিক গোষ্ঠী হাদির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ভারতের যোগ থাকার ইঙ্গিত দেয়, যা থেকে দুই দেশের সম্পর্কেও টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। এই প্রসঙ্গেই কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান হাসিনা। তাঁর মন্তব্য, "হাদির মৃত্যুর সঙ্গে ভারতের যোগসাজশের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এর পেছনে সেই মৌলবাদী শক্তিরাই রয়েছে, যারা অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতাকে 'বিদেশি ষড়যন্ত্র' হিসেবে দেখাতে চায়।"
ভারতের পক্ষ থেকেও অভিযোগ তীব্রভাবে নাকচ করা হয়েছে। নিউ দিল্লি একে "ভুয়ো বয়ান" বলে কটাক্ষ করেছে ও হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও তুলেছে।
হাসিনা বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের উষ্ণ সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের এবং এই ধরনের 'মনগড়া ব্যাখ্যা' শুধু জন ডিসকোর্স কে উগ্র করে তুলবে। তাঁর কথায়, "ভারত আমাদের নিকটতম বন্ধু। বাণিজ্য, কূটনীতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা সবক্ষেত্রেই আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। এই 'উৎপাদিত বয়ান' শুধু দ্বিপাক্ষিক বিশ্বাসকে আঘাত করছে।"
২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় মুখোশধারী দুষ্কৃতীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ছাত্র আন্দোলনের পরিচিত মুখ শরিফ ওসমান হাদি। ছয় দিন পর সিঙ্গাপুরে মৃত্যু হয় তাঁর। ২০২৪ সালের ছাত্রবিক্ষোভেই তিনি খ্যাতি অর্জন করেছিলেন যে আন্দোলনের জেরেই শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা হারান শেখ হাসিনা।
হাদির মৃত্যুর পর ঢাকায় চরম অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। পোড়ানো হয় বিখ্যাত দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার এর মূল কার্যালয়, হামলা হয় 'ছায়ানট' ও 'উদিচী শিল্পীগোষ্ঠী'র ওপরও। ময়মনসিংহে এক হিন্দু শ্রমিককেও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
এত বড় পরিসরের সহিংসতা সত্ত্বেও নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ এমন অভিযোগ বিরোধী মহলের। নেই জরুরি নিরাপত্তা পরিকল্পনা, নেই সংখ্যালঘু বা আক্রান্ত গোষ্ঠীর জন্য সুরক্ষা ব্যবস্থা, তথা দোষীদের প্রতি দৃশ্যমান পদক্ষেপ।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সংকটে বিদেশি সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পেলেও, পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায় এখন অপেক্ষা রাজনৈতিক মহলের।












Click it and Unblock the Notifications