বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আহ্বান, অন্তর্বর্তী সরকারকে তীব্র আক্রমণ শেখ হাসিনার
ভারত থেকে পাঠানো অডিও বার্তায় বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ক্ষুব্ধ ও আবেগঘন বার্তা দিলেন। সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা ও রক্তপাতের আবহে দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়ার পর প্রথমবার তিনি বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে আখ্যা দিলেন "রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত ভূমি" হিসেবে যেন স্বাধীনতা সংগ্রামের পর সবচেয়ে দুঃসময়।
হাসিনা দাবি করেন, বর্তমানে ক্ষমতাসীন অন্তর্বর্তী সরকার একটি "ফ্যাসিস্ট, দুর্নীতিগ্রস্ত ও অবৈধ শাসকগোষ্ঠী", যারা দেশের ওপর আতঙ্কের ছায়া বিস্তার করেছে। তাঁর অভিযোগ গণতন্ত্র এখন নির্বাসনে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা গলা টিপে ধরা হয়েছে, আর মানবাধিকার পরিণত হয়েছে কাগুজে শব্দে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সংখ্যালঘু, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা সবচেয়ে বেশি বিপন্ন। রাজধানী থেকে গ্রাম, এমনকি শিক্ষাঙ্গন পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে খুন, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও চাঁদাবাজির মতো ঘটনা। একইসঙ্গে দেশি বিদেশি স্বার্থগোষ্ঠীর হাতে দেশের জমি ও সম্পদ দখলের ষড়যন্ত্রের অভিযোগও তোলেন তিনি।
"আমাদের মাতৃভূমির আত্মা আজ কলঙ্কিত," বললেন হাসিনা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে বাঁচানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার ও সাংবিধানিক মর্যাদা ফিরিয়ে আনার সময় এসে গেছে।
আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে তিনি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক শক্তিগুলিকে একজোট হওয়ার ডাক দেন "এখন জাতির সামনে ঐক্যের, সাহসের ও স্পষ্ট রোডম্যাপের প্রয়োজন।"
হাসিনার বার্তায় কয়েক দফা দাবি তুলে ধরা হয়, বর্তমান প্রশাসন অপসারণ করে জনগণের ভয়মুক্ত ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
সহিংসতা বন্ধ করে প্রশাসন ও অর্থনীতির স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করা।
সংখ্যালঘু, নারী ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাষ্ট্রের কড়া ভূমিকা।
সাংবাদিক ও বিরোধীদের ওপর রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধ ও বিচারব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা পুনর্গঠন।
জাতিসংঘের মাধ্যমে গত এক বছরের ঘটনাপ্রবাহের নিরপেক্ষ তদন্ত, সত্য উদঘাটন ও জাতীয় পুনর্মিলনের উদ্যোগ।
হাসিনার ভাষায়, "এটি জাতীয় জীবনের সন্ধিক্ষণ, ভুল পথে আরও এক কদম মানেই অন্ধকার।"












Click it and Unblock the Notifications