কেন ভারতের ওপর অতিরিক্ত শুল্কের বোঝা চাপিয়েছে আমেরিকা? ফের স্পষ্ট করলেন ভান্স
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনে রাশিয়ার বোমা হামলা বন্ধ করার জন্য আক্রমণাত্মক অর্থনৈতিক কৌশল প্রয়োগ করেছেন। এর মধ্যে ভারতের উপর দ্বিতীয় পর্যায়ের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপও অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ আমেরিকার বক্তব্য, রাশিয়াকে আটকাতে ভারতকে পিছন থেকে টেনে ধরতে চাইছে ট্রাম্পের আমেরিকা।
ভান্সের মতে, এই পদক্ষেপ রাশিয়ার তেল অর্থনীতি থেকে লাভবান হওয়ার পথকে কঠিন করে তুলবে। ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক। তবে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের বৃহত্তম আমদানিকারক চিনকে নিয়ে আশ্চর্যজনকভাবে কিছু বলতে পারছে না ট্রাম্পের আমেরিকা।

ভারত বরাবরই দাবি করে আসছে যে, রাশিয়া সহ অন্যান্য দেশ থেকে নিজেদের জ্বালানি সংগ্রহ জাতীয় স্বার্থ এবং বাজারের গতিশীলতা দ্বারা প্রভাবিত।
ভান্স এদিন জানান, তাঁরা বিশ্বাস করেন যে গত কয়েক সপ্তাহে আমেরিকা-রাশিয়া দুই পক্ষই একে অপরকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছাড় দিয়েছে। তবে চরম চাপ দিতে ভারতের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর কথা স্বীকার করে নিয়েছেন ভান্স। তিনি বলেছেন, "ট্রাম্প স্পষ্ট করতে চেয়েছেন যে, যদি রাশিয়া হত্যা বন্ধ করে, তবে তাদের বিশ্ব অর্থনীতিতে পুনরায় স্বাগত জানানো হবে। কিন্তু যদি তারা হত্যা বন্ধ না করে, তবে তারা বিচ্ছিন্নই থাকবে।"
ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০% করার পর, যার মধ্যে ভারতের রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল ক্রয়ের জন্য ২৫% অতিরিক্ত শুল্কও অন্তর্ভুক্ত, নতুন দিল্লি এবং ওয়াশিংটনের সম্পর্কের শৈত্য প্রবাহ বইছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ভারতের রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা মস্কোর ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থ যোগাচ্ছে। যদিও ভারত এই অভিযোহ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর পশ্চিমের দেশগুলি মস্কোর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং তাদের সরবরাহ বন্ধ করে। এর ফলে ভারত ছাড় পাওয়া রাশিয়ার তেল ক্রয় শুরু করে। এতে ভারতের লাভ হলেও তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেছে আমেরিকা।












Click it and Unblock the Notifications