তুরস্ক-সিরিয়ার সীমান্তে ফের ভূমিকম্প! ৬.৪ মাত্রার কম্পনে মৃত্যু কয়েকজনের, আহত কয়েকশো
এবার আর ছোটমাত্রার ভূমিকম্প নয়, ৬.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে তুরস্ক ও সিরিয়া থেকে ফের মৃত্যু ও আহতের খবর। বহু মানুষের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়র খবরও পাওয়া গিয়েছে।
ফের বড় ভূমিকম্পের কবলে তুরস্ক-সিরিয়া। সোমবার সেখানে ৬.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে বলে জানা গিয়েছে। এই ভূমিকম্পে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু এবং আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। উল্লেখ করা প্রয়োজন দু-সপ্তাহ আগে সেখানে একটি বড় ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। সেই ভূমিকম্পে প্রায় ৪৭ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। লক্ষ বাড়ির ক্ষতি এবং বহু মানুষ আহত হয়েছিলেন সেই ভূমিকম্পে।

কয়েকটি দেশে ভূমিকম্প অনুভূত
সোমবার বেশ কয়েকটি ছোট ভূমিকম্পের পাশাপাশি ৬.৪ মাত্রার ভূমিকম্পটি দক্ষিণ তুরস্কের শহর আন্তাকিয়া ছাড়া সিরিয়া, মিশর এবং লেবাননে অনুভূত হয়। ইউরোপিয়ান মেডিটেরেনিয়ায়ন সিসমোলজিক্যাল সেন্টার জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল প্রায় ১০ কিমি গভীরে। আন্তাকিয়ায় এমাসের শুরুতে ভূমিকম্পের পরে অনেকেই একটি পার্কের মধ্যে তাঁবুতে আশ্রয় নেন। তাঁরা এই ভূমিকম্পে ভীত-সন্ত্রস্ত। সেইসব বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই ভূকম্পের সময় তাঁরা ভাবছিলেন পায়ের নিচের পৃথিবী ভাগ হয়ে যাবে।

ভূমিকম্পে মৃত ও আহতের সংখ্যা
তুরস্কের হাতায়ের মেয়র লুৎফুসাভাস সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, তিনি সর্বশেষ ভূমিকম্পের পরে বেশ কিছু মানুষের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়ার খবর পেয়েছেন। অন্যদিকে সেদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেমান সোয়লু বলেছেন, এখনও সেখানে এই ভূমিকম্পে ৩ জনের মৃত্যু এবং ২০০-র বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন, এই ভূমিকম্পে বেশ কিছু বাড়ি ধ্বসে গিয়েছে। তবে প্রাথমিক ছোট-ছোট ভূমিকম্পের পরে বেশিরভাগ মানুষ শহর ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন। শহরে কেবল বাড়ির ধ্বংসাবশেষ, আসবাবপত্রের স্তূপ হয়ে রয়েছে।

৬ ফেব্রুয়ারির ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি
৬ ফেব্রুয়ারির ভূমিকম্পে শুধুমাত্র তুরস্কেই মৃতের সংখ্যা ৪১ হাজারের বেশি। এই মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা সেখানকার বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের। সেই ভূমিকম্পে তুরস্কের প্রায় ৩ লক্ষ ৮৫ হাজার বাড়ি ধ্বংস কিংবা ব্যাপকভাবে ক্ষতি হয়েছে। এখনও অনেক মানুষ সেখানে নিখোঁজ রয়েছেন। তুরস্কের প্রেডিসেন্ট এরদোগান জানিয়েছেন, তাদের ভূমিকম্প বিধ্বস্ত ১১ টি প্রদেশে প্রায় ২ লক্ষ অ্যাপার্টমেন্টের নির্মাণ কাজ আগামী মাসে শুরু হবে।
এদিকে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জীর্ণ সিরিয়ার যাঁরা তুরস্কে আশ্রয় নিয়েছিলেন, আত্মীয়দের খোঁজ খবর নিয়ে তাঁরা নিজের দেশে ফিরতে শুরু করেছেন।

মার্কিন সাহায্যের আশ্বাস
সোমবার আমেরিকার বিদেশমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন তুরস্ক সফর করেন। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, ৬ ফেব্রুয়ারির ভূমিকম্প এবং আফটার শকের ক্ষেত্রে আশ্রয় এবং পুনর্বাসনের জন্য ওয়াশিংটন যতদিন লাগবে, ততদিন সাহায্য করে যাবে। মার্কিন বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত তুরস্কে মার্কিন সাহায্যের পরিমাণ ১৮৫ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।












Click it and Unblock the Notifications