Earthquake in Morocco: রাস্তায় দ্বিতীয় রাত কাটল নার্ভাস মরক্কানদের, ভূমিকম্পের মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ২০০০
মরক্কোয় ভয়াবহ ভূমিকম্প আবারও কাড়ল বহু মানুষের প্রাণ। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেল দু-হাজার। ভূমিকম্পের ভয়বহতায় নার্ভাস মরক্কানরা টানা দ্বিতীয় বিনিদ্র রাত রাস্তায় কাটালেন আতঙ্ক নিয়ে। নিমেষেই মরক্কান শহর হয়ে গেল আতঙ্কনগরী। কখন আবার ভূমিকম্প নাড়িয়ে দিয়ে যায় গোটা শহরকে!
একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ২০০০ জনেরও বেশি লোক মারা যাওয়ার পরে আতঙ্কিত মরক্কানরা রাস্তায় নেমে আসেন। টানা দ্বিতীয় রাত তাঁরা বিনিদ্র কাটিয়ে দেন রাস্তায় বসে। এদিকে উদ্ধারকারীরা ভূমিকম্পের কেন্দ্রের নিকটবর্তী প্রত্যন্ত পাহাড়ী গ্রামে আটকে পড়া ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

শুক্রবার গভীর রাতে ৬.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে মরক্কোয়। এটি ছয় দশকের মধ্যে মরক্কোর সবথেকে মারাত্মক দুর্যোগ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে অনুসারে, এটি মরক্কান অঞ্চলে এক শতাব্দীর মধ্যে এটি সবথেকে শক্তিশালী আঘাত।
মরক্কোর কর্তৃপক্ষের মতে, এ পর্যন্ত ২০১২ জন নিহত হয়েছেন এবং ১৪০৪ জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন বলে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তবে উচ্চ অ্যাটলাস পর্বতমালার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপ সরালে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঐতিহাসিক মারাকেচে ছিলি ভূমিকম্পের কেন্দ্রের নিকটবর্তী বৃহত্তম শহর। এটি একটি প্রধান পর্যটন কেন্দ্র। ভূমিকম্পের পরে শনিবার রাতে খোলা জায়গায় বিনিদ্র রজনী যাপন করেছেন মানুষ। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের সতর্ক করে দিয়েছিল যে, ভূমিকম্পের পরে আফটার শক আসতে পারে। সেই কারণে আতঙ্কিত ছিলেন মরক্কানরা।
মধ্য মারাকেচের অলিভারে পার্কে শিশু এবং বৃদ্ধ সহ শত শত মানুষ কম্বল এবং অস্থায়ী গদিতে ঘুমিয়েছিল। পরিবারগুলি একসঙ্গে ছিল। আগের রাত থেকে শক এবং আতঙ্কের পরে কিছুটা বিশ্রাম নেওয়ার চেষ্টা করছিল তারা। কেউ কেউ জামাকাপড় এবং খাবারের ব্যাগ নিয়ে এসেছিলেন। দীর্ঘ সময়ের জন্য বাড়ি থেকে দূরে থাকার প্রস্তুতি নিয়েই তারা আসেন।
মারাকেচের অনেক ভবনের অনেক ক্ষতি হয়েছে। তার মধ্যে যেমন কিছু মসজিদ রয়েছে, রয়েছে কিছু বাড়ি। অনেক সম্প্রদায় আহত হয়েছেন।একটি মসজিদের গম্বুজ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। শহরের ভূমিকম্প বিধ্বস্ত বাসিন্দাদের খাবার, জল ও কম্বল দেওয়া হয়।
মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মহম্মদ ক্ষতিগ্রস্থদের বাসস্থান এবং খাবার সরবরাহের জন্য ত্রাণ পরিষেবার জন্য একটি কমিশন গঠন করেছেন। তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। শহরের চারপাশে পতাকা অর্ধনমিতভাবে রাখা হয়েছে। মারাকেচের বিমানবন্দরে কিছু পর্যটক মূল টার্মিনালে মেঝেতে ঘুমিয়েছিলেন। তাঁরা ফ্লাইট ধরার অপেক্ষায় ছিলেন।
অ্যাটলাস পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত গ্রামগুলিতে ধ্বংসলীলা চলেছে। এই প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলিতে সর্বাধিক সংখ্যক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ইট দিয়ে তৈরি বাড়িগুলি বাসিন্দাদের উপর ভেঙে পড়ে এবং উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোও সেখানে কঠিন। ভূমিকম্পের পর পাহাড়ের ঢালে থাকা গ্রামগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications