‘ভেনেজ়ুয়েলার মতো হাল হবে’! মাদুরোকে বন্দি করে এই সমস্ত দেশকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, তালিকায় কারা?
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতারের ঘটনায় লাতিন আমেরিকা জুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই অভিযানের পরেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, প্রয়োজন পড়লে মেক্সিকো (Mexico), কিউবা (Cuba) এবং কলম্বিয়া (Colombia)-র দিকেও কড়া পদক্ষেপ নিতে পারে আমেরিকা। তাঁর অভিযোগ যে, এই দেশগুলিতে মাদক উৎপাদন হচ্ছে এবং কার্টেলদের আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে।

শনিবার ভোররাতে চালানো বিশেষ অভিযানে মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে আমেরিকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে এবং আপাতত রাজনৈতিক রূপান্তর সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার দায়িত্ব আমেরিকাই সামলাবে।
ওয়াশিংটনের মূল যুক্তি হল, নিউইয়র্কে যে মামলা দায়ের হয়েছে সেই মামলায় মাদুরোর বিরুদ্ধে 'নার্কো-টেররিজম (narco-terrorism)'-এর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর নেতৃত্বেই আমেরিকায় কোকেন এবং ফেন্টানিলের মতো মাদক পাচার হয়েছে। যদিও ভেনেজুয়েলা সরকার এই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে বলেছে যে, আসল লক্ষ্য হলো দেশের তেল এবং খনিজ সম্পদের দখল নেওয়া। অভিযানের নাম ছিল 'অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ'।
এদিকে, নিউইয়র্কের জেলে রয়েছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। স্থানীয় সময় ভোর ২টো নাগাদ মার্কিন ডেল্টা ফোর্স কারাকাসের ফোর্ট টিউনা সামরিক কমপ্লেক্সে ঢুকে মাদুরোকে এবং তাঁর স্ত্রীকে গ্রেফতার করে। সেই সঙ্গে কারাকাস এবং আশপাশের একাধিক এলাকায় বিমান হামলার খবরও পাওয়া গেছে। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে মাদক-সন্ত্রাসে যুক্ত থাকা, আমেরিকায় কোকেন পাচারের ষড়যন্ত্র, পাশাপাশি মেশিনগান এবং ধ্বংসাত্মক অস্ত্র মজুতের পরিকল্পনা।
এর মধ্যেই ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট উপ-রাষ্ট্রপতি ডেলসি রদ্রিগেজকে অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিতে নির্দেশ দিয়েছে। অন্যদিকে আবার মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে আমেরিকায় মাদক সন্ত্রাস, কোকেন পাচারসহ একাধিক অভিযোগে মামলা চলছে। আগামীকাল তাঁদের আদালতে তোলার কথা।
ভেনেজুয়েলা সরকার এই অভিযানের তীব্র নিন্দা করেছে এবং একে 'সামরিক আগ্রাসন' বলে দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য যে, দেশের রাজনৈতিক স্বাধীনতা ভাঙার জন্যেই এই হামলা। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি যে, এই হামলায় অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বিদ্যুৎ পরিকাঠামো-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহলে এই ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কিউবা একে 'রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ' বলেছে। তবে, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেছেন যে, মাদুরোর পতনে তারা দুঃখিত নন। ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো একে 'স্বাধীনতার মুহূর্ত' বলে দাবি করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications