পাকিস্তানেই ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনার ইঙ্গিত ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই ঘোষণা এসেছে তখন, যখন মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালীতে ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধ বজায় রেখেছে। নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন যে, আগামী দু'দিনের মধ্যে ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা বৈঠকে বসতে পারেন। তিনি সরাসরি উল্লেখ করে বলেন, "আপনারা সেখানেই থাকুন, কারণ আগামী দু'দিনের মধ্যে কিছু ঘটতে পারে এবং আমরা সেখানে যেতে আগ্রহী।" প্রসঙ্গত, গত ১১ এপ্রিল প্রথম দফার ব্যর্থ আলোচনাও ইসলামাবাদেই সম্পন্ন হয়েছিল।
প্রথম বারের মতো, দু'সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে মিলিত হয়েছিল। তবে, সেই আলোচনা কোনও সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয় এবং উভয় পক্ষই এর ব্যর্থতার জন্য একে অপরের ওপর দায় চাপায়। ট্রাম্প দ্বিতীয় দফার আলোচনার সম্ভাব্যতার সঙ্গে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান আসিম মুনিরের ভূমিকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি ১১ এপ্রিলের আলোচনাগুলি চমৎকারভাবে আয়োজন করার জন্য মুনিরের প্রতি উচ্চ প্রশংসা প্রকাশ করে জানান, "তিনি দুর্দান্ত।" প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও যোগ করেন, "সুতরাং, আমাদের সেখানে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।"

ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি বন্দরে অবরোধের পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। তেহরান এর প্রতিক্রিয়ায় আঞ্চলিক হামলার হুমকি দিয়েছে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে এই তীব্র অচলাবস্থা নতুন করে সংঘাত শুরুর এবং চলমান আঞ্চলিক যুদ্ধের অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর করার ঝুঁকি তৈরি করছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় পাকিস্তান বরাবরই অগ্রণী। তারা ইতিমধ্যেই আগামী দিনে দ্বিতীয় দফা বৈঠকের আয়োজন করার প্রস্তাব দিয়েছে। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই পাকিস্তানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, প্রথম দফার আলোচনা কোনো একক প্রচেষ্টা ছিল না, বরং এটি একটি চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ ছিল।
কিছু মার্কিন কর্মকর্তার মতে, দ্বিতীয় দফার আলোচনা বৃহস্পতিবার হতে পারে। তবে, তারা সতর্ক করেছেন যে, বৈঠকের স্থান, সময় এবং প্রতিনিধি দলের গঠন এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ইসলামাবাদ ও জেনেভা উভয়কেই সম্ভাব্য আয়োজক শহর হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যা আলোচনার অগ্রগতিতে অনিশ্চয়তা যুক্ত করেছে।
বর্তমানে সপ্তম সপ্তাহে প্রবেশ করা এই যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। নৌপথের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোতে বিমান হামলা বাজারের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। এই সংঘাতে ইরানে কমপক্ষে ৩,০০০ জন, ইজরায়েলে ২৩ জন এবং বিভিন্ন উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে এক ডজনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়াও, এই সংঘর্ষে তেরো জন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন, যা আঞ্চলিক অস্থিরতার তীব্রতা প্রমাণ করে।
যখন দ্বিতীয় দফা আলোচনার ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে, তখন পাকিস্তান সংলাপ পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এবং ইরানের আঞ্চলিক হামলার হুমকি সেখানকার অস্থিরতাকে ক্রমাগত বাড়িয়ে চলেছে, যা এই সংঘাতের একটি জটিল বাঁক নির্দেশ করছে।












Click it and Unblock the Notifications