ভেনেজুয়েলার 'ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট' ডোনাল্ড ট্রাম্প! নিজেই ঘোষণা করলেন তিনি, শোরগোল বিশ্ব জুড়ে
সমাজ মাধ্যমে ফের বিতর্কে জড়ালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম 'Truth Social'-এ একটি ছবি পোস্ট করে তিনি দাবি করেছেন যে, তিনি নাকি ভেনেজুয়েলার 'ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট'। পোস্ট করা ওই ছবিটি ছিল ডিজিটালি পরিবর্তিত, যেখানে উইকিপিডিয়ার আদলে তাঁর ছবি ব্যবহার করে নিচে লেখা ছিল- 'Acting President of Venezuela'।

এই দাবি সামনে আসার পরেই শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক আলোচনা এবং সমালোচনা। কারণ বাস্তবে ভেনেজুয়েলার প্রশাসনিক ক্ষমতা অথবা নেতৃত্ব কোনওভাবেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে যায়নি। ভেনেজুয়েলার সংবিধান অনুসারে, সে দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ (Delcy Rodríguez)-কেই ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
🚨 HUGE! US President Donald Trump declares himself as Acting President of Venezuela 🤯 pic.twitter.com/QElDJR92X7
— Megh Updates 🚨™ (@MeghUpdates) January 12, 2026
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই পোস্ট সম্পূর্ণ ভাবে বিভ্রান্তিকর এবং বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে এর কোনও মিল নেই। প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণের কোনও সাংবিধানিক অথবা আন্তর্জাতিক স্বীকৃত প্রক্রিয়াও এখানে অনুসরণ করা হয়নি।
শুধু এখানেই শেষ নয়। পাশাপাশি ট্রাম্প আরেকটি পোস্ট শেয়ার করেছেন। যেখানে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে মার্কো রুবিও নাকি কিউবার প্রেসিডেন্ট হতে পারেন। সেই পোস্টে ট্রাম্প মজা করে লিখেছেন, 'Sounds good to me'। এই মন্তব্যকেও অনেকেই কৌতুক হিসেবেই দেখছেন।
উল্লেখ্য, নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর ট্রাম্প এক সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করেছিলেন। ভেনেজুয়েলায় প্রশাসনিক রূপান্তরের সময় যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে পরিস্থিতি সামলাবে এবং তেল উৎপাদন সচল রাখবে। এমনকি একদিন পর তিনি বলেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নাকি এখন ভেনেজুয়েলার দায়িত্বে রয়েছে। যদিও পরে মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ভেনেজুয়েলার শাসনভার নিতে চাইছে না।
এদিকে, মাদুরোকে মার্কিন আদালতে হাজির করানো এবং তাঁর বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিযোগ দায়ের হওয়ার কারণে দুই দেশের সম্পর্ক আরও তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। মাদুরো নিজে দাবি করেছেন যে, তাঁর আটক আন্তর্জাতিক আইন এবং সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী।
তবে, ট্রাম্পের ওই পোস্ট বাস্তব কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি ডিজিটালভাবে তৈরি বিভ্রান্তিকর ছবি এবং মন্তব্য। যা ঘিরে আপাতত তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications