বিশ্ব-উষ্ণায়ন পৃথিবী আগেও সয়েছে, মানুষ নয় তার জন্য দায়ী কে ছিল জানেন
সাড়ে ছয় কোটি বছর আগে পৃথিবীতে চিক্সুলাব গ্রহাণু আছড়ে পড়ায় পৃথিবীর সিস্টেমগুলি মানুষের কার্যকলাপ থেকে এখন পর্যন্ত যেভাবে ব্যাহত হচ্ছে তার চেয়ে বেশি হারে ব্যাহত হয়েছিল।
পৃথিবীর তাপমাত্রা যে বাড়ছে তা নিয়ে কোনও দ্বন্দ্ব নেই। বিজ্ঞানীরা বারবার বলেন, এর দায় মানুষেরই। তারা প্রকৃতিকে অতিব্যাবহার করে আজকের এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণায় জানা গিয়েছে আজকের দিনে যে হারে তাপমাত্রা বাড়ছে তারচেয়েও অনেক দ্রুত তাপমাত্রা বাড়িয়েছিল আরেকটি মহাজাগতিক ঘটনা।

সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে চিকসুলাব গ্রহাণু - যাকে ডাইনোসর প্রজাতির বিলুপ্তির কারণ হিসেবে ধরা হয়, তার আঘাতে হঠাত বেড়ে গিয়েছিল পৃথিবীর তাপমাত্রা। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, ৬ কোটি ৫০ লক্ষ্য বছর আগে এই গ্রহানুটি পৃথিবীতে আছড়ে পড়েছিল। তাতে এক ধাক্কায় আমাদের গ্রহের তাপমাত্রা বেড়ে গিয়েছিল ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর এই বর্ধিত তাপমাত্রা চলেছিল পরবর্তী প্রায় এক লক্ষ বছর ধরে!
এতদিন মনে করা হত মানুষে যথেচ্ছ অত্যাচারেই ধরিত্রীর যাবতীয় সিস্টেমগুলি বিগড়ে যাচ্ছে। সেদিক থেকে এই মহাজাগতিক ঘটনাটিকে একটি বিরল ঘটনাই বলতে হবে। কারণ এক্ষেত্রে এখনকার থেকেও দ্রুত বিগড়ে গিয়েছিল পৃথিবীর নিজস্ব সিস্টেমগুলি।
বিজ্ঞানীরা জানেন যেভাবে চলছে তাতে সামনে বড় বিপদ অপেক্ষা করে আছে। দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে পৃথিবীর জলবায়ু,আবহাওয়া। এর ফল কী হতে পারে তা হাতড়ানোর জন্য ইতিহাস ঘাঁটছেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু এতদিন এরকম কোনও ঘটনা পাওয়া যায়নি, যেখানে বর্তমান সময়ের মতো দ্রুত হারে বদলের সম্মুখীন হতে হয়েছিল আমাদের গ্রহটিকে। সেদিক থেকে এই আবিষ্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন ভূ ও আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা। তাঁরা বলছেন হঠাৎ, চরম পরিবেশগত পরিবর্তন থেকে পৃথিবীর বুকে কি কি ঘটতে পারে সে সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য মিলতে পারে এ সংক্রান্ত গবেষণা থেকে।
তবে চিকসুলাব আঘাতের পরবর্তি প্রভাব নিয়ে এখনও বিতর্ক রয়েছে। একাংশের বিজ্ঞানীরা মনে করেন গ্রহানুটির আঘাতের পর বায়ুমন্ডল জুড়ে ছাইয়ের কণা ভেসে বেড়াত। তাতেই পর্যাপ্ত পরিমাণে সূর্যালোককে অবরুদ্ধ হয়ে পৃথিবীকে ঠান্ডা হতে সাহায্য করেছিল। আরেক দলের মত, গ্রহাণুটির আঘাতে পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে মুক্তি পাওয়া কার্বন, এবং তার সঙ্গে দাবালনলে আগুন থেকে মুক্ত হওয়া কার্বন পৃথিবীর তাপ বৃদ্ধি ঘটিয়েছিল।
সেই আঘাত পরবর্তী তাপমাত্রার পরিবর্তনকে ভালভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলোরাডো বোল্ডার ইউনিভার্সিটির গবেষকরা বিশদে গবেষণা চালিয়েছেন। এর জন্য় তাঁদের হাতে ছিল তিউনিসিয়া একটি এলাকা থেকে পাওয়া, ভালভাবে সংরক্ষিত, বালির মাপের মাছের দাঁত, আঁশ এবং হাড়ের নমুনা। সেগুলি তারা বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, নমুনাগুলির মধ্যে অক্সিজেন আইসোটোপ আছে। অর্থাৎ সেসময় তাপমাত্রা সংশ্লিষ্ট প্রাণীটির বেঁচে থাকার মতো ছিল।
গবেষকরা ভূত্বকের বিভিন্ন স্তর থেকে চিক্সুলাব গ্রহানু আঘাতের আগে থেকে আঘাতের অনেক পরের সময় পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ করেছেন। সেগুলি বিশ্লেষণ করে তাঁরা জানিয়েছেন, সম্ভবত আঘাতের পরই বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা প্রায় ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছিল। এবং তা বজায় ছিল তার পরে প্রায় ১ লক্ষ বছর। তারপর আবার আগের তাপমাত্রা ফিরে পায় পৃথিবী। এই মান এবং স্থিতিকাল মিলে গেছে অন্য একটি গবেষণার সঙ্গেও। সেটি ছিল গ্রহানুটি আগাতের পর কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমনের মাত্রা ও তার স্থিতিকাল নিয়ে।












Click it and Unblock the Notifications