২০১৯–এর অক্টোবর–নভেম্বরে কোভিড–১৯ ছড়িয়ে পড়েছিল চিনে, দাবি নতুন গবেষণায়
২০১৯–এর অক্টোবর–নভেম্বরে কোভিড–১৯ ছড়িয়ে পড়তে পারে চিনে
গোটা বিশ্বে মারণ ভাইরাস কোভিড–১৯ ছড়িয়ে পড়েছিল চিনের থেকে। যা বর্তমানে মহামারির রূপ ধারণ করেছে। তবে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে ২০১৯ সালের অক্টোবর থেকেই চিনে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়ে গিয়েছিল। মধ্য চিনের উহান শহরে প্রথম করোনা ভাইরাস কেস সনাক্ত হওয়ার বেশ কিছু সপ্তাহ আগেই এই সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করে।

চিনে নভেম্বরে প্রথম সনাক্ত হয় করোনা ভাইরাস
প্রসঙ্গত, সরকারিভাবে প্রথম করোনা ভাইরাস কেস সনাক্ত হয়েছিল ৮ ডিসেম্বর এবং তার সঙ্গে যোগ পাওয়া যায় উহানের হুনান সিফুড বাজারের। তবে কেন্টপিনের ব্রিটেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা তাঁদের নতুন সমীক্ষাতে জানিয়েছেন যে করোনা ভাইরাস প্রথম সনাক্ত হয় ১৭ নভেম্বর, যা ২০২০ সালের জানুয়ারিতে গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এই রিপোর্ট প্রকাশিত হয় ২৪ উন প্লস প্যাথোজেন জার্নালে।

চিনের পর জাপানে প্রথম কেস সনাক্ত
গবেষকরা বলেন, 'আমাদের ফলাফলগুলি বলছে এই ভাইরাস চিনে ২০১৯ সালের অক্টোবর থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং ২০২০ সালের জানুয়ারির মধ্যে তা গোটা বিশ্বের ত্রাস হয়ে দাঁড়ায়। এটি খুব আগে থেকে তীব্রভাবে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে এবং নিশ্চিত কেসগুলি প্রকট হয়ে দাঁড়ায়। গবেষকদের পরিসংখ্যান বলছে, চিন থেকে এই ভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে, যার জেরে জাপানে প্রথম কেস সনাক্ত হয় ৩ জানুয়ারি ২০২০ এবং এরপর ৭ জানুয়ারিতে থাইল্যান্ডে দ্বিতীয় কেস সনাক্ত হয়।
গবেষকদের মতে, এই ভাইরাসটি পূর্ব এশিয়া ত্যাগ করে ইউরোপের দিকে প্রবেশ করে, যার জন্য ২০২০ সালের ১২ জানুয়ারি স্পেনে প্রথম করোনা কেস সনাক্ত হয়। তালিকায় দক্ষিণ কোরিয়া পরবর্তী নম্বরে রয়েছে, যেখানে ১৪ জানুয়ারি এই ভাইরাস সনাক্ত হয়। ইউরোপে সংক্রমণ ছড়ানোর পর করোনা বাইরাস উত্তর আমেরিকায় ঢুকে পড়ে এবং ১৬ জানুয়ারি সেখানে প্রথম করোনা ভাইরাস কেস ধরা পড়ে। আমেরিকা হল তালিকায় পঞ্চম দেশ।

অন্যান্য দেশেও তদন্ত হোক
কোভিড-১৯ ভাইরাসের আসল উৎসস্থলের সন্ধানের তদন্তে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে চিন এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য দেয়। তবে চিনের বিদেশ মন্ত্রক কূটনৈতিক সুরে উপদেশ দেয় যে এই ভাইরাসের আসল উৎসস্থলের সন্ধান করতে হু-এর উচিত আমেরিকা সহ অন্যান্য দেশকেও তাদের তদন্তে সামিল করা। মে মাসে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের তরফ থেকে বিবৃতি জারি করে বলে, 'মহামারির প্রকোপের পর, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই মারণ ভাইরাসের প্রকৃত উৎস কোথায় তার তদন্তে হু-কে চিন সবধরেনর সহযোগিতা করেছে। উভয় পক্ষের বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে চিনের বিভিন্ন স্থান ঘুরেছেন, বৃহৎ সংখ্যার পরিসংখ্যান খতিয়ে দেখেছেন, গবেষণার রিপোর্ট জারি করেছে এবং বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য সমাধানে এসে পৌঁছেছে। যৌথভাবে এই গবেষণা বিশ্বজুড়ে এই ভাইরাসের প্রকৃত উৎস খুঁজতে অনুপ্রাণিত করেছে।'

করোনার উৎস নিয়ে সন্দেহ বিরাজমান
তবে করোনার উৎস নিয়ে সন্দেহগুলি অবশ্য রয়ে গিয়েছে এবং নতুন গবেষণা নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। এই সপ্তাহে একটি প্রিপ্রিন্ট প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে, সিয়াটেলের ফ্রেড হাচিনসন ক্যান্সার গবেষণা কেন্দ্রের জেসি ব্লুম চিনের কোভিড-১৯-এর প্রথম দিক থেকে মুছে ফেলা সিকোয়েন্সিং তথ্য উদ্ধার করেছেন। ওই তথ্যে রয়েছে জেনেটিক সিকোয়েন্সগুলি চিনের উহান শহর থেকে এসেছিল। কোভিড-১৯-এর আক্রান্ত আর সংক্রমণ প্রথম দিকে চিনের এই শহরেই বেশি করে পরিলক্ষিত হয়েছিল।












Click it and Unblock the Notifications