খুলনায় ভোটকেন্দ্রে সংঘর্ষে বিএনপি নেতার মৃত্যু, গোপালগঞ্জে বিস্ফোরণ নির্বাচনে ছায়া ফেলল বিক্ষিপ্ত অশান্তি
বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের দিন সকালে শুরুটা ছিল শান্তিপূর্ণ। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তির ছায়া ঘনীভূত হতে থাকে। খুলনায় ভোটকেন্দ্রে ধস্তাধস্তির ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে এক বিএনপি নেতার। অন্যদিকে গোপালগঞ্জে ককটেল বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন তিনজন। ফলে ভোটের আবহে উদ্বেগ ছড়িয়েছে নানা মহলে।
খুলনার ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার সকালে। নিহত মহিবুজ্জামান কচি (৬০) ভোট দিতে কেন্দ্রে গেলে সেখানে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে তাঁর বচসা বাধে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ও ধস্তাধস্তির মধ্যে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। মাথায় গুরুতর আঘাত লেগে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। তবে এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে জামায়াত। ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণের প্রথম ভাগ ছিল তুলনামূলক শান্ত। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১২টা পর্যন্ত দেশের ৩২,৭৮৯টি কেন্দ্রে ভোট পড়েছে প্রায় ৩২.৮৮ শতাংশ। তবে বেলা গড়াতেই বিচ্ছিন্ন অশান্তির খবর সামনে আসতে থাকে।
গোপালগঞ্জে এক ভোটকেন্দ্রের অদূরে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ ওঠে। বিস্ফোরণে আনসার বাহিনীর দুই সদস্য ও এক শিশুসহ মোট তিনজন আহত হন। ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম জানান, সকাল পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত ছিল। হঠাৎই একদল দুষ্কৃতী কেন্দ্র সংলগ্ন খালের ওপার থেকে ককটেল ছুড়ে পালিয়ে যায়। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়াই বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মস্থান ও একসময় এটি আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। জানাগিয়েছে, সকালে সেখানে ভোট শান্তিপূর্ণ হলেও ভোটার উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম।
নির্বাচনের সকালে দেশবাসীর উদ্দেশে অভয়বার্তা দেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। তিনি সকলকে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান। তবুও দুপুরের পর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২ এলাকায় দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। রাজশাহী থেকেও বিক্ষিপ্ত গোলমালের খবর মিলেছে।
সব মিলিয়ে, শান্তিপূর্ণ ভোটের প্রত্যাশার মাঝেই বিভিন্ন জেলায় বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন ও নিরাপত্তাবাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications