যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে না আরও সাত দেশের নাগরিক! থাকছে কিছু ব্যতিক্রমও, তালিকায় কারা? জানুন
এবার থেকে আমেরিকায় প্রবেশে আরও কড়াকড়ি হয়ে গেল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা এবং জনসুরক্ষার কথা তুলে ধরে মঙ্গলবার নতুন একটি ঘোষণা করেছেন। এই ঘোষণাটির ফলে আরও ২০টি দেশ ও প্যালেস্টাইনি নাগরিকদের উপর প্রবেশের ক্ষত্রে কড়া নিয়ম জারি করা হয়েছে। ফলে আমেরিকার ট্রাভেল ব্যান অথবা প্রবেশ-নিষেধাজ্ঞার তালিকায় দেশের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯।

হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বুরকিনা ফাসো, মালি, নাইজার, দক্ষিণ সুদান ও সিরিয়া-এই পাঁচটি দেশের নাগরিকদের উপর সম্পূর্ণ ট্রাভেল ব্যান জারি হয়েছে। পাশাপাশি, প্যালেস্টাইনি অথরিটির জারি করা ভ্রমণ নথি যাঁদের কাছে রয়েছে, তাঁরাও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন। সেই সঙ্গে, আগে আংশিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা লাওস ও সিয়েরা লিওনে এবার পুরোপুরিভাবে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই নতুন নির্দেশিকা কার্যকর হবে ১ জানুয়ারি থেকে।
দু'সপ্তাহ আগেই মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা সচিব ক্রিস্টি নোয়েম জানিয়েছিলেন, ১৯টি দেশের উপর থাকা ট্রাভেল ব্যান আরও বাড়ানো হতে পারে। আর ঠিক সেই সময়েই এই সিদ্ধান্ত এসেছে। যদিও, কোনও দেশের নাম বা নির্দিষ্ট সংখ্যা জানাননি তিনি।
এর আগেই আফগানিস্তান, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, ইয়েমেন, সুদান, হাইতি-সহ মোট ১২টি দেশের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা রয়েছে।
নতুন এই সিদ্ধান্তকে অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি ভাবেই দেখছে ওয়াশিংটন। সম্প্রতি ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্য খুনের ঘটনার পর থেকেই নিরাপত্তা নিয়ে আরও চাপ বাড়ছিল। অভিযুক্ত আফগান নাগরিক হিসেবে আশ্রয় পেয়েছিলেন বলে দাবি প্রশাসনের। এছাড়াও, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে সিরিয়ায় আইএস জঙ্গি হামলায় দুই মার্কিন সেনা এবং এক নাগরিকের মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
নতুন ঘোষণায় অ্যাঙ্গোলা, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, তানজানিয়া, জাম্বিয়া, জিম্বাবোয়ে-সহ ১৫টি দেশের উপর আংশিক প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে বুরুন্ডি, কিউবা, ভেনেজুয়েলা ও টোগো-র নাগরিকদের জন্য আগের মতোই আংশিক নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকছে।
এক্ষেত্রে একমাত্র ব্যতিক্রম হল তুর্কমেনিস্তান। সেই দেশের নাগরিকদের জন্য শুধুমাত্র কিছু নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে।
কেন এই কড়া সিদ্ধান্ত?
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে যে, সন্ত্রাসবাদ, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা, দুর্বল নথি যাচাই ব্যবস্থা এবং ভিসা মেয়াদ শেষের পরও বহু মানুষের থেকে যাওয়ার প্রবণতাই এই সিদ্ধান্তের একমাত্র মূল কারণ। বিশেষ করে সিরিয়ার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে, সেখানে এখন কার্যকর পাসপোর্ট এবং নাগরিক নথি জারি করার মতো কোনও কেন্দ্রীয় প্রশাসন নেই।
তবে এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও স্থায়ী বাসিন্দা, বর্তমান ভিসাধারী, কূটনীতিক, ক্রীড়াবিদ ও জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের জন্য ছাড় রাখা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা আলাদা ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকছে বলে জানানো হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications