ভারতের অনুরোধে সাড়া চিনের, রফতানি নিষেধাজ্ঞা উঠল জরুরি পণ্যে, চাপ বাড়ল আমেরিকার?
আমেরিকার কল্যাণে হোক অথবা নিজেদের স্বার্থে, ফের একবার কাছাকাছি আসার মতো জায়গা তৈরি হয়েছে ভারত-চিন সম্পর্কে। আর এশিয়ার দুই সর্ববৃহৎ দেশ যদি সম্পর্কের শৈত্য কাটিয়ে উঠতে পারে, তাহলে পশ্চিমী বিশ্বের জন্য তা যথেষ্ট অস্বস্তির কারণ হবে। কারণ ভারত-চিনের কাছাকাছি রয়েছে রাশিয়াও।
জানা গিয়েছে, চিন এবার ভারত থেকে সার, দুষ্প্রাপ্য খনিজ এবং টানেল বোরিং মেশিন রফতানির উপর আরোপ করা বিধিনিষেধ তুলে নিতে সম্মত হয়েছে। এই পদক্ষেপ ভারতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই এবং ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের মধ্যে আলোচনার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ওয়াং ই ভারত সফরে এসে জয়শঙ্করকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, বেজিং এই তিনটি পণ্যের বিষয়ে নয়াদিল্লির অনুরোধে সাড়া দেবে। এটি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ। এদিন মঙ্গলবার ওয়াই ই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।
এই বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর আগে সারের উপর চিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (DAP) সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটেছিল। এছাড়া, ভারতের পরিকাঠামো প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় টানেল বোরিং মেশিনও আটকে ছিল, যার মধ্যে চিনে তৈরি বিদেশি কোম্পানির সরঞ্জামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ভারতের অটোমেটিক এবং ইলেকট্রনিক্স শিল্প বারবার দুষ্প্রাপ্য খনিজের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগে ছিল। যা উৎপাদনের ঝুঁকিও বাড়িয়েছিল। তবে সেই সমস্যা এবার মেটার পথে।
চলতি বছরের এপ্রিলে চিন সাতটি দুষ্প্রাপ্য খনিজের জন্য বিশেষ রফতানি লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করেছিল। সেই নিয়মই তুলে নেওয়া হচ্ছে।
বাজাজ অটোসহ অন্যান্য গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা দুষ্প্রাপ্য খনিজের ঘাটতির কারণে উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছিল। বর্তমানে, কেন্দ্রীয় ভারী শিল্প মন্ত্রক দেশীয়ভাবে দুষ্প্রাপ্য খনিজ উৎপাদনে উৎসাহ দিতে ১,৩৪৫ কোটি টাকার একটি ভর্তুকি প্রকল্প চালু করার পরিকল্পনা করছে।












Click it and Unblock the Notifications