বিদ্রোহী তিব্বতের যুবকদের ভারতীয় সেনার মুখে ঠেলে দিচ্ছে চিন
বিদ্রোহী তিব্বতের যুবকদের ভারতীয় সেনার মুখে ঠেলে দিচ্ছে চিন
কিছুদিন আগেই আচমকা তিব্বত সফরে এসে পৌঁছেছিলেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং৷ গোটাবিশ্বকে যেন বুঝিয়ে দিতে চেয়েছিলেন যে, তিব্বত চিনেরই অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ৷ এবার তিব্বতি তরুণদের লালফৌজে সামিল করতেই হবে বলে নির্দেশিকা দিল বেজিং৷ জানানো হল, তিব্বতের প্রতি পরিবার থেকে একজন করে তরুণকে যোগ দিতেই হবে চিনা সেনাবাহিনীতে।

জানা গিয়েছে, এই সমস্ত তিব্বতি জওয়ানদের ভারত-চীন সীমান্তে মোতায়েন করা হবে। তাঁরা প্রত্যেকে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারলে তবেই সুযোগ পাবেন দেশ পাহারা দেওয়ার। লাদাখ, অরুণাচল প্রদেশের মতো দুর্গম স্থানে তাদের মোতায়েন করতে চলেছে বেজিং।
একটি সর্বভারতীয় বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিন ইতিমধ্যেই প্রতি তিব্বতি পরিবার থেকে একজন করে জওয়ান লালফৌজে সামিল করার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে। ফৌজে সামিল হওয়ার আগে প্রত্যেক তিব্বতি জওয়ানদের বিশ্বাসযোগ্যতার পরীক্ষা দিতে হবে। সেখানে চিনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতি আনুগত্য থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্পণের প্রতিজ্ঞা করানো হবে সবাইকে দিয়ে৷
সূত্রের খবর, সরাসরি কোনও সংঘর্ষে না জড়ালেও ভারত সীমান্তে লালচোখ দেখাচ্ছে চিনা সেনাবাহিনী। প্রতিনিয়ত সীমান্তে সেনা সংখ্যা বাড়িয়ে চলেছে তারা। পালটা দিচ্ছে ভারতও। লাদাখে স্পেশ্যাল কম্যান্ডো বাহিনী মোতায়েন করেছিল ভারত। সেই বাহিনী আবার তিব্বতি শরনার্থীদের দ্বারা গঠিত। ভারতীয় সেনার এই পদক্ষেপের প্রত্যুত্তর হিসেবে কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার পথ বেছে নিয়েছে চিন। বলাই বাহুল্য, ভারত-চীন এই দুই দেশের সেনাবাহিনীই পাহাড়ে যুদ্ধে বিশেষভাবে সক্ষম।
কয়েকদিন আগেই তিব্বতের কিছু যুবকদের নিয়ে একটি বিশেষ বাহিনী তৈরি করেছে চিন৷ গালওয়ান, লাদাখ সহ উঁচু বরফে ঢাকা জায়গাতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে মোকাবিলায় পেরে না উঠে তিব্বতের যুবকদের ময়দানে নামিয়েছে বেজিং৷ লাদাখের হিমালয়ের জলবায়ুর সঙ্গে ভালোই সাদৃশ্য রয়েছে তিব্বতের৷ পাশাপাশি দলাই লামা থেকে শুরু করে তিব্বদের বৌদ্ধদের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কও ভালো৷ তিব্বতের স্বাধীনতা লাভের ইচ্ছায় ভারত সহযোগী হতে পারে এরকম মনে করেই কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলতে চাইছে বেজিং।
তিব্বতীদের সেনাবাহিনীতে এনে ভারত সীমান্তে মোতায়ন করতে চাইছে চিন৷ উঁচু বরফে ঢাকা এলাকাগুলোতে লালফৌজের চোখ এবং কান হিসেবে কাজ করবে তিব্বতী সেনাবাহিনী৷ পাশাপাশি ড্রোন পরিচালনা ও ফ্রন্ট কম্বাটের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে তিব্বতের যুবকদের। যদিও বেজিংয়ের এসব পদক্ষেপের আগেই মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই চিন ও পাকিস্তান সীমান্তে অফেনসিভ ডিফেন্স নীতি নিয়েছে ভারত।












Click it and Unblock the Notifications