তৈরি হচ্ছে চিনের বিরুদ্ধে 'কোল্ড ওয়ার'-এর অ্যাজেন্ডা! আমেরিকার সঙ্গে হাত মেলাবে রাশিয়া?
গত কয়েকমাসে চিনের বিরুদ্ধে বিশ্বকে একজোট করতে উঠে পড়ে লেগেছে আমেরিকা। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে এই সময়ে ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে অন্তত পাঁচবার ফোনে কথা বলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সময় অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, তেলের নিরাপত্তা এবং ইরান নিয়ে আলোচনা হয়।

চিনের উত্থানকে ভয় আমেরিকার
মার্কিন রাষ্ট্রপতি হিসেব ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিষিক্ত হওয়ার আগে থেকেই চিনের উত্থানকে নিজেদের আধিপত্যের প্রতি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের পারস্পরিক সম্পর্ক বিগত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে উত্তেজনাকর তিক্ত রূপ ধারণ করেছে। কূটনৈতিক হুমকি-ধামকির পাল্টাপাল্টি প্রক্রিয়া আগামীতে সামরিক সংঘর্ষে পরিণত হবে কিনা, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে আশঙ্কা। আর বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনৈতিক পরাশক্তির মধ্যে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হলে, তখন এশিয়ার দেশগুলোকে বাধ্য হয়েই যেকোনো একপক্ষকে সমর্থন দিতে হবে।

যুদ্ধ চায় না কেউ
আনুষ্ঠানিকভাবে উভয় দেশের সরকার যদিও পরিষ্কার জানিয়েছে যে, তারা কেউই সরাসরি সামরিক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে চায়না, তারপরও সামরিক বিশেষজ্ঞরা বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় এ সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে পারছেন না। বরং তাদের ধারণা, সংঘর্ষে একবার শুরু হলে- এশিয়ার দেশগুলোকে পক্ষালম্বন করতেই হবে। এক্ষেত্রে, অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের পাল্লা বেশি ভারি হবে।

সংঘাতের নেপথ্যে বাণিজ্য
বাণিজ্য থেকে শুরু করে ৫জি নেটওয়ার্ক, সীমান্ত বিতর্ক ও করোনা নিয়ে চিনের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক আগে থেকেই খারাপ ছিল৷ বিগত দুই বছরে পরমাণু শক্তিধর দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের মধ্যে একাধিক বিষয় নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। যার মধ্যে অন্যতম ছিল; দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, মানবাধিকার, প্রযুক্তি চুরি, তাইওয়ান এবং দক্ষিণ চিন সাগরের নিয়ন্ত্রণ।

করোনা আবহে অস্থির পরিস্থিতি
চলতি বছর কোভিড-১৯ মহামারি এ বিরোধ যেন আরও উস্কে দিয়েছে। তাছাড়া, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হাসিলেও চিনকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে। যার ধারাবাহিকতায় আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে; ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকান উভয় দল কে বেশি চিন বিরোধী! তা প্রমাণের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত।

চিনকে বারংবার তোপ আমেরিকার৫
প্রসঙ্গত, এর আগে আমেরিকার বিচারবিভাগের তরফে করোনা ভাইরাসের গবেষণা সংক্রান্ত-সহ একাধিক তথ্য চুরি বা চুরির চেষ্টার অভিযোগে দুই চাইনিজ হ্যাকারকে অভিযুক্ত করা হয়৷ বলা হয়, তারা বেজিংয়ের জন্য এই কাজ করছিল৷ এই বিষয়কে কেন্দ্র করে চিনের তরফে একটি বিবৃতিতে বলা হয়, 'অনুপ্রবেশ ও হস্তক্ষেপ করা চিনের বিদেশ নীতির জিন বা ঐতিহ্য নয়৷'

মার্কিন-চিন বাণিজ্যযুদ্ধ
এই করোনা মহামারী এমন এক সময়ে এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যে পড়ে বিশ্ব বাণিজ্য হুমকির মুখে। মুক্ত বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ গুরুতর অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে এই মহামারীর জেরে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে এটিই সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন অর্থনৈতিক সময় সমগ্র বিশ্বের জন্য। অবশ্য বাণিজ্যযুদ্ধ ছাড়িয়ে এখন উত্তেজনা ছড়িয়েছে সীমান্তে, সমুদ্রে, সব স্থানেই।

বাড়ছে চাপানউতোর
যখন এই প্রকোপ শেষ হবে, তখন কী শুধু চিনই বীরদর্পে দাঁড়িয়ে থাকবে? এই প্রকোপ শুরু হওয়ার পর গোটা বিশ্বে দেড় কোটি মানুষ আক্রান্ত এই সংক্রমণে। আমেরিকা, যে কী না বিশ্বের সবথেকে শক্তিশালী দেশ, এই করোনার জেরে নুইয়ে পড়েছে। সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ এখন সেটি। এরপরই তালিকায় রয়েছে ব্রাজিল ও ভারত। চিনের প্রতিবেশী দেশ এখন করোনা আবহে দাবার ঘুঁটি হয়ে গিয়েছে। লাদাখ নিয়ে বাড়তে থাকা চাপানউতোরের মাঝেই আমেরিকা ভারতকে সমর্থন জানিয়েছে।

রণং দেহি মেজাজে আমেরিকা
লাদাখে চিনা আগ্রাসনের বিরুদ্ধেও রণং দেহি মেজাজে আমেরিকা। প্রসঙ্গত, বহুদিন ধরেই চিনের সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক সংঘাত চলছিল। এরপর করোনা পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি আরও খানিকটা যুদ্ধের দিকে ঘণীভূত হতে থাকে। এর থেকেই বিশেষজ্ঞদের মত যে আদতে চিন এই সব দেশের বিরুদ্ধে উত্তেজনা তৈরি করে ওয়াশিংটনে বার্তা পৌঁছাতে চাইছে। এর জবাবে অবশ্য আমেরিকার সাফ বার্তা, মার্কিন সেনা চিনের তরফে আসা চ্যালেঞ্জের জবাব দিতে উপযুক্ত জায়গায় মোতায়েন থাকবে।

নেপথ্যে মার্কিন নির্বাচন?
চলতি বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এরই মধ্যে একাধিকবার জনমত সমীক্ষা করা হয়েছে। সর্বশেষ জনমত সমীক্ষার ফলাফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী জো বাইডেনের চেয়ে ১৫ পয়েন্টে পিছিয়ে পড়েছেন। সেই নির্বাচনের আগে জনমত গড়ে তুলতেই কি তবে বন্ধু থেকে চিনকে শত্রুতে পরিণত করলেন ট্রাম্প? তবে এই স্নায়ুযুদ্ধ যে দিকে এগোচ্ছে তা আরও ধীর্ঘায়িত হবে বলেই মনে হচ্ছে এবং তাতে রাশিয়া চিনের বিপক্ষে গিয়ে আমেরিকার পাশে দাঁড়াতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications