মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! ফেরিঘাট থেকে সোজা পদ্মায় তলিয়ে গেল যাত্রীবোঝাই বাস, মৃত ১৮, নিখোঁজ বহু
বাংলাদেশের দৌলতদিয়া এলাকায় ঘটে গেছে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। যাত্রীভর্তি একটি বাস পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অনেক মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গিয়েছে। সেইসঙ্গে, বেশ কয়েকজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, বুধবার অর্থাৎ গতকাল বিকেল প্রায় ৫টার একটু পরে খুবই অল্প সংখ্যক যাত্রী নিয়ে বাসটি যাত্রা শুরু করে। ধীরে ধীরে পথে যাত্রী সংখ্যা আরও বাড়তে থাকে। পরে বাসটি ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করার জন্য দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুনে দাঁড়িয়ে ফেরিতে ওঠার অপেক্ষা করছিল। আর ঠিক সেই সময় 'হাসনাহেনা' নামের একটি ফেরি এসে পন্টুনে জোরে ধাক্কা মারে। আঘাতের তীব্রতা অনেকটা থাকার কারণে পন্টুনের একটি অংশ ভেঙে যায়। এইরকম পরিস্থিতিতে হঠাৎ করেই বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। বাসটি প্রায় ৪০ জন যাত্রীসহ সরাসরি পদ্মা নদীতে গিয়ে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনাটি ঘটার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন যাত্রী সাঁতার কেটে কোনোমতে তীরে উঠে আস্তে সক্ষম হন। তবে বেশিরভাগ যাত্রীই বাসের ভেতরে আটকে পড়েন। তারপর সেখান থেকেই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। প্রথম দিকে মাত্র দুই জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু রাত বাড়ার সাথে সাথে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে থাকে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, নদী থেকে অন্তত ১৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং মোট মৃতের সংখ্যা ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও পর্যন্ত অনেক যাত্রীর খোঁজ পাওয়া যায়নি।
রাত ১১টার কিছুক্ষন পরে ডুবে যাওয়া ওই বাসটির কিছু কিছু অংশ জলের ওপর ভেসে উঠতে দেখা যায়। তারপরে ক্রেনের সাহায্যে বাসটিকে নদী থেকে তোলা হয়। উদ্ধারকার্যের জন্য ডুবুরিদের জলে নামানো হয়েছে এবং নদীর তলদেশে তাঁরা তল্লাশি চালাচ্ছেন। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া, বিশেষ করে ঝড়-বৃষ্টি, উদ্ধারকার্যে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই কারণে নিখোঁজদের খোঁজে তৎপরতা চালানো অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications