Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

বাসমতি বাণিজ্যে অস্থিরতা! ইরানে অশান্তি ও ট্রাম্পের ২৫% শুল্কে ভারতের চাল রপ্তানি ও দামের ওপর কী প্রভাব পড়বে?

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা আর আমেরিকার হঠাৎ 'ট্যারিফ বোমা' দুইয়ের চাপে টালমাটাল ভারতের বাসমতি চালের বাজার। ভারতের রপ্তানি শিল্প আশঙ্কায়, কৃষকদের মুখেও উদ্বেগের ছাপ। ইরানে সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও ব্যাপক বিক্ষোভের জেরে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের সমস্যা বাড়ছে, অর্ডার কার্যকর করতে দেরি, অর্থ প্রেরণে অনিশ্চয়তা আর ডেলিভারি শিডিউল এলোমেলো হয়ে পড়ছে।

এরই মাঝে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করলেন, "ইরানের সঙ্গে যে কোনও দেশের বাণিজ্য হলে আমেরিকার সঙ্গে সেই দেশের লেনদেনে ২৫% শুল্ক বসবে।" হুঁশিয়ারি স্পষ্ট আর তার অভিঘাতও পড়ছে বৈশ্বিক খাদ্য বাণিজ্যে।

২০২৫- ২৬ অর্থবর্ষের এপ্রিল থেকে নভেম্বরের মধ্যে ভারত ইরানে ৫.৯৯ লক্ষ মেট্রিক টন বাসমতি রপ্তানি করেছে, যার মূল্য ৪৬৮.১০ মিলিয়ন ডলার। দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় বাসমতি চালের সবচেয়ে বড় বিদেশি ক্রেতা ইরান। কিন্তু ইরানের বর্তমান পরিস্থিতিতে রপ্তানি শৃঙ্খলে জট তৈরি হয়েছে বলে জানাচ্ছে ইন্ডিয়ান রাইস এক্সপোর্টার্স ফেডারেশন (আইআরইএফ।

ফেডারেশনের মতে, ইরানের রাজনৈতিক অস্থিরতা সরাসরি প্রভাব ফেলছে চুক্তি, পেমেন্ট ও পরিবহনের ওপর। ফলে ভারতীয় বাজারে ঝিমিয়ে পড়েছে চাহিদা, এক সপ্তাহেই বিভিন্ন বাসমতি প্রজাতির দাম কমেছে চোখে পড়ার মতো। ব্যবসায়ীরা ঝুঁকি এড়াতে চুক্তি পিছিয়ে দিচ্ছেন, নতুন ডিলেও সতর্কতা বেড়েছে।

আইআরইএফ এর জাতীয় সভাপতি ড. প্রেম গার্গ সতর্ক করে বলছেন, "ইরান ঐতিহাসিকভাবে ভারতীয় বাসমতির অন্যতম স্তম্ভ বাজার। কিন্তু বর্তমান টালমাটাল পরিস্থিতিতে পেমেন্ট বাধা, ক্রেতার আস্থা কমা ও ট্রেড চ্যানেলে জট তৈরি হয়েছে। তার সরাসরি প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে দেশীয় বাজারে দামে দ্রুত পতন হয়েছে।"

ফেডারেশন রপ্তানিকারকদের পরামর্শ দিয়েছে ইরান নির্ভরতা কমাতে নতুন বাজারে প্রবেশ, ঝুঁকি মূল্যায়ন জোরদার, পেমেন্ট সুরক্ষা বাড়ানো ও শুধুই ইরানের জন্য অতিরিক্ত স্টক না বানানোর।

ট্রাম্পের ঘোষণার পর প্রশ্ন উঠছে, এবার কি মার্কিন বাজারেও বাড়বে চাপ? আইআরইএফ জানাচ্ছে, ভারতীয় চাল ইতিমধ্যেই আমেরিকায় ৫০% শুল্কের আওতায়, যা আগে ছিল ১০%। তবুও আমেরিকায় ভারতীয় বাসমতির রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি।

কারণ হিসেবে ফেডারেশন বলছে বাসমতির কোনো 'সস্তা বিকল্প' নেই, না পাকিস্তানি চাল, না মার্কিন চালই এর বিকল্প হতে পারে। পাশাপাশি গালফ ও ভারতীয় উপমহাদেশীয় রন্ধনে বাসমতির ব্যবহার সাংস্কৃতিকভাবে গভীর, ফলে দাম বাড়লেও চাহিদা কমার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ভারতীয় বাসমতির চতুর্থ বৃহৎ বাজার এবং সামগ্রিকভাবে ভারতীয় চালের ১০ম বৃহৎ আমদানিকারক।

ইরানের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বড়
তবে সব থেকে চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ইরানে যেখানে আমদানিকারকরা চুক্তি ও অর্থপ্রদানে সমস্যা তৈরি হওয়ার কথা জানিয়েছে। এর স্থায়িত্ব ও দিক কোনদিকে যাবে তা এখনও অনিশ্চিত। ফলত আগামী দিনে দাম, নগদ প্রবাহ ও বাজার আস্থায় আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

শেষ পর্যন্ত আইআরইএফ মনে করিয়ে দিচ্ছে "বিশ্ববাণিজ্য এখন গভীরভাবে ভূ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। খাবারপণ্য রপ্তানি বিশেষ করে চালের মতো কৌশলগত কৃষিপণ্যে স্থিতিশীলতা অত্যন্ত জরুরি। আজকের সতর্কতা হয়তো আগামী দিনের বড় ক্ষতি এড়াবে।"

ভারতের কৃষক, ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারক তিন পক্ষেরই চোখ তাই এখন ইরান ও আমেরিকার দিকে। পরিস্থিতি কোন পথে যায় সেটাই এখন বাজারের বড় প্রশ্ন।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+