লেখিকা তসলিমা নাসরিন এ আর রহমানের ‘কমিউনাল' মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানালেন
বলিউডে "কমিউনাল" মন্তব্য ঘিরে সুরকার এ আর রহমানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এবার নতুন মোড় নিল লেখিকা তসলিমা নাসরিনের বক্তব্যে। নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা স্পষ্ট ভাষায় প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় ও ধনী শিল্পী হওয়ার পরও কি সত্যিই ধর্মের কারণে রহমান কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না?
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এ আর রহমান অভিযোগ করেছিলেন, গত কয়েক বছরে হিন্দি চলচ্চিত্রে তার কাজ কমে যাওয়ার পেছনে "শিফটিং পাওয়ার ডায়নামিক্স" ও "সম্ভবত একটি কমিউনাল দিক" থাকতে পারে। মন্তব্য ভাইরাল হতেই সংগীত মহল থেকে সামাজিক মাধ্যম সর্বত্রই আলোচনা ও সমালোচনায় জমজমাট পরিবেশ। জাভেদ আখতার, হরিহরণ থেকে লেসলি লুইস অনেকে মতামত দিয়েছেন। বিতর্ক থামাতে রহমান নিজেও পরে ব্যাখ্যা দেন "ব্যথা দেওয়াই উদ্দেশ্য ছিল না।"

এই বিতর্কেই পাল্টা সুর তুললেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। এক্স হ্যাণ্ডেলে পোস্ট করে তিনি দাবি করেন, এ আর রহমান এমন একজন শিল্পী যার জনপ্রিয়তা ও অর্থশক্তি ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগকে দুর্বল করে দেয়। তার ভাষায় "রহমান মুসলিম, কিন্তু তিনি ভারতের সবচেয়ে বিখ্যাত ও ধারালো পারিশ্রমিক নেওয়া শিল্পী। সম্ভবত দেশের সবচেয়ে ধনী সংগীতশিল্পীও তিনি। তাকে করুণা দেখানো মানায় না।"
তসলিমা আরও লেখেন
"শাহরুখ খান এখনো বলিউডের বাদশা, সালমান, আমির, জাভেদ আখতার, শাবানা আজমি তাঁরা সকলেই সুপারস্টার। ধনী ও প্রভাবশালীদের কোনো সমস্যাই কোথাও হয় না, ধর্ম, জাত বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে।"
নিজের অভিজ্ঞতার উল্লেখ করে তসলিমা বলেন, আসল অসুবিধা হয় সাধারণ মানুষের, বিশেষত আর্থিকভাবে দুর্বলদের,
"আমার নামের কারণে আমাকে মুসলিম ভেবে বাড়ি ভাড়া দিতে চায় না কেউ। হাসপাতালে প্রতারণা, পশ্চিমবঙ্গ থেকে বের করে দেওয়া, হায়দরাবাদে মারধর এসবই সহ্য করেছি।"
এদিকে বিতর্ক বাড়তে থাকলে ভিডিও বার্তায় এআর রহমান জানান "ভারত আমার বাড়ি, আমার শিক্ষক ও অনুপ্রেরণা। আমার কাজ সবসময়ই সংস্কৃতি ও মানবিকতাকে সম্মান করার। ভুল বোঝাবুঝি হতেও পারে, কিন্তু কখনো আঘাত দিতে চাইনি।"
তিনি আরও বলেন, একজন ভারতীয় হিসেবে তিনি ভাগ্যবান, কারণ এই দেশ শিল্পীকে স্বাধীনতা দেয় ও বহু কণ্ঠস্বরকে সহ্য করে।












Click it and Unblock the Notifications