বাংলাদেশে অস্থিরতার মাঝেই সময়মতো ভোটের অঙ্গীকার, মার্কিন দূতকে আশ্বাস মহম্মদ ইউনূসের
বাংলাদেশ জুড়ে অস্থিরতার আবহ, তবু নির্ধারিত সময়েই ভোট এমনই স্পষ্ট বার্তা দিলেন মহম্মদ ইউনূস। ২০২৪ সালের গণ অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যে উত্তেজনা ছড়িয়েছে, তার মধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরকে ফোনে আশ্বস্ত করলেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মহম্মদ ইউনূস। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময়েই সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সোমবার প্রায় আধঘণ্টার ওই ফোনালাপে ইউনূস বলেন, "স্বৈরাচারী শাসনের আমলে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এবার দেশের মানুষ অধীর আগ্রহে সেই অধিকার প্রয়োগের অপেক্ষায়।" শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন প্রাক্তন সরকারের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁদের সমর্থকেরা বিপুল অর্থ ব্যয় করে নির্বাচন প্রক্রিয়া ভণ্ডুল করার চেষ্টা করছে ও বিদেশে পলাতক নেত্রী হিংসা উসকে দিচ্ছেন। তবে তাঁর সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে কোনও সংশয় নেই বলেও সাফ জানিয়ে দেন প্রধান উপদেষ্টা।

ইউনূসের কথায়, "ভোটের আর প্রায় ৫০ দিন বাকি। আমাদের লক্ষ্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। আমরা চাই এই নির্বাচন স্মরণীয় হয়ে থাকুক।"
ফোনালাপে উঠে আসে ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গও। ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের গুলিতে আহত হন হাদি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, হাদি নিজেও ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঢেউ উঠেছে। বিচার না হলে ভোট বানচাল করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন সমর্থকেরা।
এই অস্থিরতার মধ্যেই একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনার খবর সামনে আসছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দপ্তরে ভাঙচুর, ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ির ধ্বংসপ্রাপ্ত কাঠামোয় তাণ্ডব, এমনকি চট্টগ্রামে ভারতের সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনে পাথর ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছে। গত সপ্তাহে ময়মনসিংহের বালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে এক হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা করে দেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে।
হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চলমান প্রতিবাদের মধ্যেই নতুন করে রক্ত ঝরেছে। ২২ ডিসেম্বর দক্ষিণ পশ্চিম বাংলাদেশের খুলনায় গুলিবিদ্ধ হন ছাত্রনেতা মোতালেব শিকদার। তিনি ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির খুলনা বিভাগীয় প্রধান ও দলের শ্রমিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী।
ফোনালাপে নির্বাচন ছাড়াও বাংলাদেশ আমেরিকার বাণিজ্য ও শুল্ক সংক্রান্ত আলোচনা ও দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়াও উঠে আসে। এই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান ও এসডিজি সমন্বয়কারী ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ।
অস্থিরতা, প্রতিবাদ আর রক্তক্ষয়ের আবহে দাঁড়িয়েও বাংলাদেশের রাজনৈতিক মঞ্চে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে নির্ধারিত সময়ে কি সত্যিই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব হবে? ইউনূস সরকারের বার্তা স্পষ্ট, কিন্তু বাস্তবের চ্যালেঞ্জ যে কম নয়, তা দিনের পর দিন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।












Click it and Unblock the Notifications