ট্রাম্পের হুমকির আবহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা পুনরায় শুরুর নির্দেশ ইরানের
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও দেশের ভেতরে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিল ইরান। সোমবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান আমেরিকার সঙ্গে ফের পরমাণু ইস্যুতে আলোচনা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও আলোচনার নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
জানাগিয়েছে "প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত বিষয়েই এই আলোচনা হবে।"

এই সিদ্ধান্ত আসে এমন এক সময়ে, যখন ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র এসমাইল বাকাই জানিয়েছিলেন ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার জন্য একটি কাঠামো ও পদ্ধতি তৈরির কাজ প্রায় শেষের পথে। তাঁর কথায়, কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত করা হচ্ছে ও খুব শীঘ্রই তা সম্পন্ন হতে পারে।
এরই মধ্যে ইরানের ভেতরে তীব্র আকার নিয়েছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। ভেঙে পড়া অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জেরে চলা এই আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানির অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে সতর্ক করে বলেছেন "ইরানের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।" একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা উপস্থিতিও বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।
যদিও আদৌ যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক হামলা চালাবে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি। তবে রবিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেনি কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটন যদি কোনও 'দুঃসাহসিক পদক্ষেপ' নেয়, তাহলে তা গোটা মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক যুদ্ধের আগুন জ্বালাতে পারে।
খামেনি বলেন, "আমেরিকানদের বুঝে রাখা উচিত, যদি তারা যুদ্ধ শুরু করে, তবে এবার তা সীমিত থাকবে না, হবে আঞ্চলিক যুদ্ধ। আমরা কারও ওপর হামলা চালাতে চাই না, কিন্তু ইরানি জাতি যদি আক্রান্ত হয়, তবে কঠোর জবাব দেবে।"
একই সঙ্গে সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে 'ক্যু' বা অভ্যুত্থান বলে অভিহিত করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বিদেশি শক্তির মদতেই এই অস্থিরতা ছড়ানো হয়েছে। খামেনির দাবি, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানগুলিকে ভেঙে দেওয়াই ছিল আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যে পুলিশ, সরকারি দপ্তর, রেভলিউশনারি গার্ডের স্থাপনা, ব্যাঙ্ক ও মসজিদে হামলা চালানো হয়েছে ও কোরানের কপি পর্যন্ত পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, উত্তেজনার আবহে সংলাপের উদ্যোগ কি পরিস্থিতি শান্ত করবে, না কি মধ্যপ্রাচ্য আরও বড় সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।












Click it and Unblock the Notifications