বিতর্কিত বৈঠকের পরই প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন ট্রাম্প, এবার পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিলেন জেলেনস্কি, জানালেন ‘ধন্যবাদ’!
ওভাল অফিসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের পর, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তার প্রতি সমর্থন জানানো বিশ্ব নেতাদের প্রকাশ্যে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসেবে শুরু হওয়া এই বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত তীব্র বিতর্কে রূপ নেয়। ট্রাম্প জেলেনস্কির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন যে তিনি "লক্ষ লক্ষ জীবন নিয়ে জুয়া খেলছেন" এবং মার্কিন সমর্থনের প্রতি যথেষ্ট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন না। আর তা নিয়ে পাল্টা জবাবও দেন জেলেনস্কি। উত্তেজনা একটা সময় এতটাই প্রবল হয়ে যায় যে, জেলেনস্কি হোয়াইট হাউস ছেড়ে বেড়িয়ে যান।

বৈঠকের সময় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স, জেলেনস্কির বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আপস না করার জন্যে তাঁকে আক্রমণাত্মক ভাষায় বিদ্ধ করেন। তাঁর কথায়, জেলেনস্কি মিডিয়ার সামনে লড়াই করার চেষ্টা করছে'।
একই সাথে আবার, ট্রাম্প বলেন, "তোমার কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। তোমার হাতে কার্ড নেই। তোমাকে আরও কৃতজ্ঞ হতে শিখতে হবে!"
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির পরপরই ইউরোপীয় ও কানাডীয় নেতারা জেলেনস্কির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য দিতে শুরু করেন।
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক লিখেছেন, "আপনি একা নন"। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, "ন্যায্য ও স্থায়ী শান্তি অর্জনে কানাডা সবসময় ইউক্রেনের পাশে থাকবে"। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কায়ার স্টারমার বলেন, "ইউক্রেনের প্রতি আমাদের সমর্থন অটল থাকবে"।
এছাড়া ইতালি, সুইডেন ও নিউজিল্যান্ডসহ আরও অনেক দেশের নেতারা জেলেনস্কির সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাকে সমর্থন জানান।
ট্রাম্পের অভিযোগ ছিল, জেলেনস্কি মার্কিন সহায়তার জন্য পর্যাপ্ত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেননি। তবে সিএনএন-এর ফ্যাক্ট-চেক অনুযায়ী, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অন্তত ৩৩ বার জেলেনস্কি প্রকাশ্যে মার্কিন সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। বৈঠকের পর জেলেনস্কি এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, "ধন্যবাদ আমেরিকা! @POTUS, কংগ্রেস এবং আমেরিকান জনগণকে ধন্যবাদ। ইউক্রেনের ন্যায্য ও স্থায়ী শান্তি প্রয়োজন, এবং আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি"।
এদিকে এই বিতর্কের পর ট্রাম্প প্রতিক্রিয়া দিয়ে জানিয়েছিলেন, "আমাদের মধ্যে একটি অর্থবহ বৈঠক হয়েছে, তবে আমি বুঝতে পেরেছি যে রাষ্ট্রপতি জেলেনস্কি এখনও শান্তির জন্য প্রস্তুত নন। তিনি মনে করেন, আমেরিকার সাথে আলোচনা তার জন্য সুবিধাজনক হবে, কিন্তু আমি কোনো সুবিধা চাই না, আমি শান্তি চাই। তিনি আমেরিকার প্রিয় ওভাল অফিসে এসে আমাদের অসম্মান করেছেন। যখন তিনি সত্যিকারের শান্তির জন্য প্রস্তুত হবেন, তখন তিনি ফিরে আসতে পারেন"।
স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনাটি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত বহন করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।












Click it and Unblock the Notifications