Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

'তোর বাবা মোদী...', বহুবার হুমকি, ফের কুপিয়ে খুন হিন্দু যুবককে, বাংলাদেশে হচ্ছেটা কী?

বাংলাদেশে আবারও সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হিংসার ঘটনা সামনে এল। জানা গিয়েছে যে, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দু'জন হিন্দু ব্যক্তিকে খুন করা হয়েছে। সোমবার রাতে নরসিংদী জেলায় কাঁচা অস্ত্রের হামলায় মৃত্যু হয়েছে ৪০ বছর বয়সি এক মুদির দোকানদারের। নাম শরৎ মণি চক্রবর্তী। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরেও শেষরক্ষা হয়নি।

নিহত শরৎ মণি চক্রবর্তীর প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন যে, তিনি ছিলেন অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের মানুষ। পাড়ার সকলের সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক ছিল। সামাজিক কাজকর্মেও নিয়মিত যুক্ত ছিলেন তিনি। কারও সঙ্গে শত্রুতা ছিল না বলেই দাবি এলাকাবাসীর। সেই কারণেই অনেকের মনে প্রশ্ন উঠছে যে, হিন্দু পরিচয়ের কারণেই কী তাঁকে টার্গেট করা হয়েছে?

এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশের সমাজকর্মী বাপ্পাদিত্য বসু। তাঁর বক্তব্য, এক হিন্দুর রক্ত এখনও শুকোয়নি, তার মধ্যেই আর এক হিন্দুকে খুন করা হল। তিনি বলেন, "রানার মৃত্যুর ঘটনার ধাক্কা কাটতে না কাটতেই শরৎকে খুন করা হল। এভাবে চলতে থাকলে তো কয়েক বছরের মধ্যেই বাংলাদেশে হিন্দুদের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়বে।"

বাপ্পাদিত্য আরও অভিযোগ করেন যে, রাষ্ট্রের নীরব প্রশ্রয়ের জন্যেই সংখ্যালঘুদের উপর হামলা বাড়ছে। তাঁর দাবি যে, বাংলাদেশে হিন্দু হলেই প্রাণনাশের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে শরৎকে চিনতেন বলেও জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, দুষ্কৃতীরা নিয়মিত শরতের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা চাইছিল। বাংলাদেশে থাকতে হলে 'জিজিয়া' দিতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল তাঁকে।

অভিযোগ অনুযায়ী, পুলিশের কাছে যাওয়ার পরেও স্ত্রীকে অপহরণ করার ভয় দেখানো হয়েছিল। বাপ্পাদিত্য জানিয়েছেন যে, "দুষ্কৃতীরা বলে, 'বেশি চিৎকার না করে চুপচাপ টাকাতা দিয়ে দে। তোর ভারত অথবা তোর বাবা নরেন্দ্র মোদী এলেও জিজিয়া আদায় করা আটকাতে পারবে না'।"

এই ঘটনার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই যশোর জেলায় গুলি করে খুন হয়েছেন ৪৫ বছরের রানা প্রতাপ নামে এক কারখানা মালিক। তিনি একটি সংবাদপত্রের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকও ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে যে, মোটরবাইকে করে আসা দুষ্কৃতীরা তাঁকে ডেকে নিয়ে গিয়ে গুলি চালায়। তারপর তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। ঘটনাস্থল থেকে সাতটি গুলির খোল উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে যে, তাঁর মাথায় তিনটি গুলি লেগেছিল। পুরো বিষয়টি এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই দুটি খুনের ঘটনা ফের বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হিংসার অভিযোগ উঠছে। সম্প্রতি ঝিনাইদহ জেলায় এক হিন্দু মহিলাকে ধর্ষণ এবং নিগ্রহের অভিযোগ সামনে এসেছিল। এর আগে ঢাকার কাছেই খোকন চন্দ্র দাস নামে এক ব্যবসায়ীকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা হয়েছিল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।

ডিসেম্বর মাসেও একাধিক হিন্দু হত্যার ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশে। ২৯ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে বজেন্দ্র বিশ্বাস নামে এক নিরাপত্তা কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ২৪ ডিসেম্বর রাজবাড়িতে অমৃত মণ্ডল নামে এক যুবককে পিটিয়ে মারা হয়। সেই একই মাসে ১৮ ডিসেম্বর দীপু চন্দ্র দাস নামে আর এক যুবককে গণপিটুনির পর আগুনে পুড়িয়ে মারার ঘটনাও বিশ্বজুড়ে আলোড়ন ফেলেছিল।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর লাগাতার হামলা নিয়ে ভারত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন যে, ইউনুস সরকারের সময়কালে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে প্রায় ২,৯০০-র বেশি হিংসার ঘটনার তথ্য সামনে এসেছে। তাঁর বক্তব্য যে, এগুলোকে কোনও ভাবেই গুজব অথবা রাজনৈতিক ঘটনা বলে এড়িয়ে যাওয়া যায় না।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+