ইরান সংঘাতে নতুন মোড়, আলোচনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের আবহ। ইরানকে ঘিরে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সামরিক অভিযান তীব্রতর হওয়ার মাঝেই আলোচনার সমস্ত পথ কার্যত বন্ধ বলে ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর সাফ বক্তব্য, "এখন আর আলোচনার সময় নেই।" নিজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে তিনি দাবি করেন, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, নৌ ও বায়ুসেনা ও শীর্ষ নেতৃত্ব কার্যত ভেঙে পড়েছে।
সোমবার হোয়াইট হাউসের তরফে ইরানে হামলার যৌক্তিকতা তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, তেহরান দ্রুতগতিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল, যা সরাসরি আমেরিকার নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, এই ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির আড়ালেই গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টা চলছিল। ট্রাম্পের কথায়, "দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত ইরানি শাসনব্যবস্থা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, আমেরিকার সাধারণ মানুষের জন্যও অসহনীয় বিপদ ডেকে আনত।"

তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের হাতে এমন ক্ষেপণাস্ত্র ইতিমধ্যেই ছিল যা ইউরোপ ও বিদেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম। অদূর ভবিষ্যতে সেই ক্ষমতা আমেরিকার মূল ভূখণ্ডেও পৌঁছে যেত বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। ট্রাম্প স্পষ্ট করে দেন, কোনও অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেবেন না।
এ প্রসঙ্গে তিনি প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে হওয়া ইরান পরমাণু চুক্তির কথাও টেনে আনেন। ট্রাম্পের দাবি, তিনি সেই চুক্তি ভেঙে দিয়ে আমেরিকাকে বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন। তাঁর মতে, চুক্তি বহাল থাকলে ইরান বহু আগেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হয়ে যেত।
এদিকে শনিবার পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। তেহরানে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় আঘাত হানে মার্কিন ইজরায়েল যৌথ বাহিনী। লক্ষ্যবস্তুগুলির মধ্যে ছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়তুল্লা আলী খামেনির কমপাউন্ডও। পরবর্তীতে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।
তার জবাবে ইরানও পাল্টা আঘাত হানে। ইজরায়েলের রাজধানী তেল আভিভ সহ একাধিক শহর ও পশ্চিম এশিয়াজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও দূতাবাসে হামলা চালানো হয়। সংঘাতের আঁচ পড়েছে অসামরিক ক্ষেত্রেও সৌদি আরবের একটি তেল শোধনাগার ও দুবাইয়ের একটি বিলাসবহুল হোটেলেও ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে।
পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও।












Click it and Unblock the Notifications