৭ দিন, ৭ বৈঠক, একটাই অজুহাত; আটক বিএসএফ জওয়ানকে কি নিজেদের তুরুপের তাস ভাবছে পাকিস্তান?
ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনার আবহে ফের চরম অসহযোগিতার অভিযোগ। পাঞ্জাবের ফিরোজপুর সীমান্তে ভুলবশত আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করার পর ১৮২তম ব্যাটালিয়নের বিএসএফ জওয়ান পিকে সাউ পাকিস্তান রেঞ্জার্সের হাতে ধরা পড়েন। সেই ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়নি।
বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিন দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে বৈঠক হলেও পাকিস্তান রেঞ্জার্স বারবার একটাই কথা বলে চলেছে - "ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ আসেনি"। প্রতিটি বৈঠক হয় খুবই সংক্ষিপ্ত, প্রায় ১৫ মিনিটের, এবং তাতে কোনও অগ্রগতি হয়নি।

আর এখানেই পাকিস্তানের অসহযোগিতা স্পষ্ট ভাবে দেখছে ভারত। কেননা, যেন তেন প্রকারে পাকিস্তান বোধহয় চাইছে সাউকে নিজেদের হাতেই ধরে রাখতে। আর এখানেই পাকিস্তানের অন্য চক্রান্ত খুঁজে পাচ্ছে ভারত।
একজন ঊর্ধ্বতন বিএসএফ আধিকারিক এই প্রসঙ্গেই বলেন, "সাউ মাত্র ১-২ মিটার পাকিস্তানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিলেন। এই ধরনের ঘটনা সাধারণত দুই দেশের বোঝাপড়ায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিটে যায়। কিন্তু পাকিস্তান ইচ্ছাকৃতভাবে জটিল করে তুলছে"।
এই অবস্থায় কূটনৈতিক স্তরেও উদ্বেগ বাড়ছে। পাকিস্তানের এই অনমনীয় অবস্থান অনেকের কাছেই ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে আটক রাখার ঘটনাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে। তখনও আন্তর্জাতিক চাপের ফলে ৬০ ঘণ্টা পর তাঁকে ছাড়া হয়। এবার সেই পরিস্থিতি যেন আরও দীর্ঘায়িত ও জটিল হয়ে উঠছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই ঘটনায় পাকিস্তান রেঞ্জার্সের অসহযোগিতা এমন এক সময়ে ঘটছে যখন সম্প্রতি পহেলগাঁও-এ জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন। সেই হামলায় পাকিস্তান-ঘনিষ্ঠ জঙ্গি সংগঠন 'দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট' (TRF) জড়িত বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়।
সীমান্তের এই ঘটনায় পাকিস্তানের 'নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা' দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলছে। ভারতের তরফ থেকে কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা স্তরে সাউকে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি তোলা হচ্ছে।
এদিকে, বুধবার রাতে পাক প্রধানমন্ত্রী শরিফ ও ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে ফোন করেন মার্কিন সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিও। দু'পক্ষকেই সংযত হওয়ার বার্তা দেন তিনি। পহেলগাঁও হামলায় প্রাণ গিয়েছে ২৬ জন নিরীহ পর্যটকের। জয়শঙ্করের সঙ্গে ফোনালাপে নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেন রুবিও। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানান তিনি। সন্ত্রাসবাদ দমনে ভারতের সঙ্গে আমেরিকা যৌথভাবে কাজ করবে বলেও আশ্বাস দেন মার্কো। একই সাথে পাকিস্তানকেও সংযত থাকার বার্তা দেন তিনি।
কিন্তু পাকিস্তান সেই সব আদপে মানছে কি? অন্তত তাঁদের বাস্তব কর্মকাণ্ড তেমনটা প্রমাণ দিচ্ছে না। সীমান্তে এমন একটি দুর্ঘটনাজনিত ভুলেও যদি রাজনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়, তাহলে তা ভবিষ্যতের জন্য আরও উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।












Click it and Unblock the Notifications