অবনতি হচ্ছে ইরানের পরিস্থিতি, নিরাপত্তা রক্ষীর গুলিতে হত ৩৫ জন বিক্ষোভকারী
ইরানের বিক্ষোভে ৩৫ জন নিহত
পুলিশি হেফাজতে তরুণী মৃত্যুর পর এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। ইরানের নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে ৩৫ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মাহাসা আমিনিকে সঠিকভাবে অপরাধে তেহরান পুলিশ আটক করেন। পুলিশি হেফাজতে তাঁর মৃত্যু হয়।

মাহাসা আমিনির মৃত্যুর পর টানা আট রাত ইরানের বড় বড় একাধিক শহরে মহিলারা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ইরানের সরকারি টেলিভিশন জানিয়েছে, বিক্ষোভের জেরে ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ১৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছিল ইরানের সরকারি টেলিভিশন। যদিও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই মৃত্যুর আসল সংখ্যা অনেক বেশি। ইরান সরকারের সূত্র অনুসারে, ইরানের এই বিক্ষোভে পাঁচ জন নিরাপত্তা কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
ইরানের উত্তর-পশ্চিম গুইলাইন প্রদেশের পুলিশ প্রধান একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ৬০ জন মহিলা সহ ৭৩৯ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে ইরানের একাধিক অঞ্চলে বিক্ষোভ দেখা দেয়। ইন্টারনেটে ইরানের বিক্ষোভের একাধিক ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে ইরানের পুলিশকে বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালাতে দেখতে পাওয়া গিয়েছে। অসলো ভিত্তিক ইরানের বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থার তরফে একাধিক ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখান দেখা গিয়েছে ইরানের নিরাপত্তারক্ষীর পোশাক পরা এক ব্যক্তি বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে একে-৪৭ অ্যাসাল্ট রাইফেলে গুলি করতে দেখা গিয়েছে।
ইরানের প্রশাসন একাধিক সাংবাদিককে আটক করেছে বলে জানা গিয়েছে। মার্কিন ভিত্তিক মিডিয়া ওয়াচডগের তরফে শেরিফ মনসুর জানিয়েছেন, সোমবার থেকে মোট ১১ জন সাংবাদিককে পুলিশ আটক করেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তরফে জানানো হয়েছে, ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানের ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরফলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মানবাধিকার সংস্থাটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
ইরানে পাল্টা হিজাবপন্থীরাও বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন। শুক্রবার তেহরানের রাস্তায় হাজার হাজার হিজাবপন্থী ইরানের নিরাপত্তারক্ষীদের সমর্থনে মিছিল করেন। এক সপ্তাহের এই বিক্ষোভকে তাঁরা ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে উল্লেখ করেন। আহভাজ, ইসফাহান, কোম এবং তাবরিজ শহরেও নিরাপত্তা বাহিনীর সমর্থনে মিছিল বের হয়।
ইরানে সঠিকভাবে হিজাব না পরার অপরাধে তেহরান থেকে ২২ বছরের তরুণী মাহাসা আমিনিকে আটক করা হয়। পুলিশি হেফাজতে তাঁর মৃত্যু হয়। তারপরেই ইরানে বিক্ষোভের আগুন জ্বলতে থাকে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হিজাব বয়কট করে আন্দোলনকারী বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বিক্ষোভকারীদের হিজাব আগুনে পুড়িয়ে দিতে দেখা যায়।












Click it and Unblock the Notifications