উত্তর প্রদেশে পরিবেশ রক্ষায় যোগী আদিত্যনাথ! একদিনে ৩৫ কোটি গাছের চারা রোপনের পরিকল্পনা
উত্তর প্রদেশে পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ যোগী আদিত্যনাথ সরকারের। জুলাই মাসে এক দিনে ৩৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, গত ছয় বছরে উত্তর প্রদেশে ১৩৩ কোটি গাছের চারা রোপন করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, রোপন করা চারাগুলির মধ্যে কতগুলি বেঁচে রয়েছে, তার সমীক্ষায় আশাবাদী ফল পাওয়া গিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে একদিনে ৩৫ কোটি চারা রোপন করা হবে। গত বছরে ৫ জুলাই একদিনে ২৫ কোটি চারা রোপন করা হয়েছিল। এবার সরকার সেই লক্ষ্যমাত্রাকে অতিক্রম করে অনেকদূর এগিয়ে যেতে চায়। লখনৌতে দুদিনের জলবায়ু কনক্লেভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে লখনৌতে দুদিনের জলবায়ু কনক্লেভের সময় উত্তর প্রদেশের ঐতিহ্য গাছ-এর ওপরে পুস্তিকা প্রকাশ করেন। সেখানেই তিনি বলেন, বন বিভাগকে নোডাল বিভাগ ধরে নিয়ে আরও কয়েকটি বিভাগকে যুক্ত করে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ৩৫ কোটি চারা রোপন করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, জয়বায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে পরিবেশকে বাঁচাতে হবে। তিনি বলেন, ভারতের ঐতিহ্য সবসময়ই পরিবেশ বান্ধব। তিনি বলেছেন, পৃথিবী যেহেতু আমাদের মা, তাই সবাইকে এর প্রতি দায়বদ্ধ থেকে কাজ করতে হবে। দুদিনের জলবায়ু কনক্লেভে সারা দেশ থেকে বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়েছেন।
যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন, ভারতের ঐহিত্য সবসময়ই পরিবেশ বান্ধব। সে সম্পর্কে সবাই সচেতন। অরর্ববেদের স্তোত্রে বলা হয়েছে, সবাই আমরা পৃথিবীর সন্তান। মায়ের প্রতি সন্তানদের কর্তব্য কী তা বলার দরকার নেই, বলেন মুখ্যমন্ত্রী।

জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার কথা উল্লেখ তরে যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন, আমরা অপ্রত্যাশিতভাবে ভারী বৃষ্টির সম্মুখীন হচ্ছি। অতীতে ১৫ জুনের মধ্যে বর্ষা চলে আসত। কিন্তু গত জুন মাসে বৃষ্টিপাত দেখা যায়নি। জুলাইয়ে কম বৃষ্টি এবং অগাস্টে খরা দেখা গিয়েছে। তিনি বলেছেন, বর্ষা এসেছে অক্টোবরে। সেই মাসেই বন্যার মোকাবিলা করতে হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, এবছরের মার্চে বৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু যখন কৃষকের জলের প্রয়োজন ছিল, তখন তা হয়নি। বৃষ্টি হয়েছে ফসল ঘরে তোলার সময়। এর ফলে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এইভাবে মুখ্যমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন জলবায়ু পরিবর্তনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ভুগছি আমরা সবাই।
যোগী আদিত্যনাথ জল সংরক্ষণের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং প্রতিটি জেলায় ৭৫ টি অমৃত সরোবর তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এখনও পর্যন্ত রাজ্যে প্রায় ৮ হাজার অমৃত সরোবর তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications