Year Ender 2022: মহিলাদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট! একনজরে পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ রায়
Year Ender 2022: মহিলাদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট! একনজরে পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ রায়
প্রত্যেক বছরের মতো ২০২২-এ ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দিক থেকে পরিপূর্ণ। প্রায় সারা বছর ধরেই মুদ্রাস্ফীতি এবং বেকারত্বের সমস্যার পাশাপাশি বেশ কিছু বিষয়ে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও লক্ষ্য করা গিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে পাঁচটি বিষয়ে মহিলাদের নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের রায়।

টু ফিঙ্গার টেস্ট
সুপ্রিম কোর্ট ৩১ অক্টোবর দেওয়া আদেশে ধর্ষণ কিংবা যৌন নিপীড়ন পরীক্ষায় টু-ফিঙ্গার টেস্ট বাতিল করে দিয়েছে। সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, কেউ যদি এই পরীক্ষা পরিচালনা করেন, তাহলে তিনি দোষী হবেন এবং সেই অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সর্বোচ্চ আদালত বলেছে এই পরীক্ষার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এটি ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণ করে না কিংবা অস্বীকারও করে না।

সন্তানের উপাধি নির্ধারণের অধিকার রয়েছে মায়ের
একজন মা সন্তানের প্রাকৃতিক অভিভাবক। সুপ্রিম কোর্ট রায়ে বলেছে সন্তানের উপাধি নির্ধারণের ক্ষেত্রে মায়ের অধিকার রয়েছে। আদালতের তরপে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পরে একজন মাকে তাঁর নতুন পরিবারে সন্তানকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং উপাধি নির্ধারণ করা থেকে বাধা দেওয়া যায় না।
বিচারপতি দীনেশ মহেশ্বরী এবং বিচারপতি কৃষ্ণ মুরারির বেঞ্চ বলেছে, সন্তান দত্তক নেওয়ার অধিকার রয়েছে মহিলাদের। হিন্দু মাইনরিটি অ্যান্ড অ্যাডপশন অ্যাক্ট ১৯৫৬ অনুসারে, সন্তানের স্বাভাবিক অভিভাবক হিসেবে বাবার পাশাপাশি মাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৈবাহিক ধর্ষণও ধর্ষণ
গত ২৯ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট তাদের পর্যবেক্ষণে বলেছে বৈবাহিক ধর্ষণও ধর্ষণ। সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ সারা দেশে অসংখ্য মহিলাকে আশার আলো দিয়েছে। শীর্ষ আদালত তাদের রায়ে উল্লেখ করেছে,মেডিক্যাল টার্মিনেশন অফ প্রেগনেন্সির বিষয়টিকে স্ত্রীর ওপরে স্বামীর যৌন নির্যাতন হিসেবে ধরা হবে। আইনের বিধানে তাকে ধর্ষণ হিসেবেই বলা হবে। ফলে ধর্ষণের সংজ্ঞায় মেডিক্যাল টার্মিনেশন অফ প্রেগনেন্সিকে বৈবাহিক ধর্ষণ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি এএস বোপান্না এবং বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালার বেঞ্চ এই রায় দিয়েছিল।

প্রত্যেক নারীর অধিকার নিরাপদ ও আইনি গর্ভপাত
মহিলাদের নিয়ে অপর একটি রায়ে সর্বোচ্চ আদালত বলেছে সারা দেশে ভ্রুণের বয়স ২০ থেকে ২৪ সপ্তাহের মধ্যে হলে, তা গর্ভপাতের অধিকার তাঁদের রয়েছে। এব্যাপারে সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, গর্ভধারণ বন্ধ করার অনুমতি দেওয়ার ব্যাপারে বিবাহিত এবং অবিবাহিত মহিলাদের মধ্যে কোনও পার্থক্য করা হলে তা অসাংবিধানিক হবে। প্রসঙ্গত মেডিক্যাল টার্মিনেশন অফ প্রেগনেন্সি রুলস, ২০০৩-এর বিধি অনুযায়ী কিছু কিছু ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে ২০-২৪ সপ্তাহের মধ্যে হলে গর্ভপাতের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এব্যাপারে বছর ২৫-এর এক অবিবাহিত মহিলা ২৩ সপ্তাহ-৫ দিনে ভ্রুণের গর্ভপাতের জন্য আবেদন করলে তা প্রত্যাখ্যান করে দিল্লি হাইকোর্ট।

বাড়ি তৈরির টাকাও যৌতুক হিসেবে গণ্য হবে
বিবাহিত কোনও মেয়ে যদি তাঁর বাবা-মার কাছে শ্বশুর বাড়িতে বাড়ি তৈরির জন্য টাকা চায়, তাগলে যা যৌতুক হিসেবে গণ্য করা হবে। বিচারপতি হিমা কোহলি এবং বিচারপতি এএস বোপান্না বছরের শুরুতে এই রায় দিয়েছিলেন।












Click it and Unblock the Notifications