Rahul Gandhi: মার্কিন শুল্ক নিয়ে প্রধানমন্ত্রী চুপ কেন? নিজের প্রশ্নের কড়া ব্যাখ্যা দিলেন রাহুল গান্ধী নিজেই
যুক্তরাষ্ট্র ভারতের উপর ২৭% শুল্ক আরোপ করায় এক তীব্র প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নীরবতা নিয়ে সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বুধবার, আহমেদাবাদে সবরমতী নদীর তীরে অনুষ্ঠিত এআইসিসি অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে রাহুল মোদীর নেতৃত্ব ও বিদেশ নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
রাহুল গান্ধী বলেন, "একটি অর্থনৈতিক ঝড় আসছে, এবং এই সরকার লোকের দৃষ্টি ঘোরাতে সংসদে নাটক করছে। কোভিডের সময় বাসন বাজাতে বলেছিলেন, এবার অর্থনৈতিক ঝড় আসছে - তিনি এখন কোথায়? লুকিয়ে আছেন কেন?"

তিনি আরও বলেন, "আগে যখন মোদী আমেরিকায় গিয়েছিলেন, তখন ট্রাম্পকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। এবার কি সেই আলিঙ্গনের ছবি কোথাও দেখেছেন? আজ সেই 'বন্ধু' ট্রাম্প ভারতের উপর শুল্ক চাপিয়ে দিচ্ছেন, আর মোদী একটাও শব্দ খরচ করছেন না"।
মোদীর '৫৬ ইঞ্চি বুক' মন্তব্যকে কটাক্ষ করে রাহুল বলেন, "তিনি আজ কিছু বলছেন না, শুধু বিদেশি নেতাদের সামনে মাথা নত করছেন। আমার দিদা (ইন্দিরা গান্ধী) বলেছিলেন তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সোজা হয়ে দাঁড়ান। আজকের প্রধানমন্ত্রী কেবল নিজের ব্র্যান্ডিং নিয়ে ব্যস্ত"।
'ন্যায়পথ' শিরোনামের একটি প্রস্তাবে কংগ্রেস বলেছে, "বিজেপি সরকার ভারতের পররাষ্ট্রনীতি ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং ও স্বার্থের জন্য জলাঞ্জলি দিচ্ছে। যেখানে কংগ্রেসের তৎকালীন সরকার নীতিগত এবং ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে ভারতের মর্যাদা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছিল"।
প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, "আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে ওয়াশিংটন সফরের সময় প্রকাশ্যে অপমান করা হয়েছে। আমাদের দেশকে 'শুল্ক অপব্যবহারকারী' হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং ভারতীয় অভিবাসীদের পশুর মতো শিকল ও হাতকড়া পরিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আর দুঃখজনক বিষয়, এই এতকিছুর পরেও আমাদের বিদেশমন্ত্রীও এই আচরণের পক্ষে সাফাই দিয়েছেন"।
কংগ্রেস প্রস্তাবে চিনের আগ্রাসন, ব্রহ্মপুত্রে বাঁধ নির্মাণ, বাংলাদেশে মৌলবাদী উত্থান এবং গাজায় মানবিক বিপর্যয় নিয়েও মোদী সরকারের অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে, "এই সরকার শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও নীরব। এমনকি ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতেও ভারতের অবস্থান স্পষ্ট নয়"।
রাহুল গান্ধীর বক্তব্য ও কংগ্রেসের প্রস্তাব স্পষ্টভাবে বর্তমান বিদেশনীতিকে "দুর্বল নেতৃত্ব এবং আত্মসমর্পণের কৌশল" হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ঝড়ের মাঝে কংগ্রেস মোদী সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছে নেতৃত্ব প্রদর্শনের জন্য এবং জাতীয় স্বার্থে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য। তবে তা কতটা শুনবে কেন্দ্রীয় সরকার? তা বোঝা যাবে ভবিষ্যতেই।












Click it and Unblock the Notifications