দিল্লির মেয়র-নির্বাচনে সহজ জয় আপের! কিন্তু মাসখানের ব্যবধানে কেন দুবার ভোট
নির্বাচিত হল দিল্লির মেয়র ও ডেপুটি মেয়র। বুধবার এ বিষয়ে বৈঠক হয়। তারপরই নির্বাচিত হন মেয়র ও ডেপুটি মেয়র। গত মেয়র নির্বাচনে কার্যত চূড়ান্ত নাটক দেখা যায় দিল্লিতে। ২০২২-এর ডিসেম্বরে সেই নির্বাচন হয়। ২৫০ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৩৪ টি ওয়ার্ডে আপ জয়ী হয়েছিল সেই নির্বাচনে।
তবে বিজেপি ও আপের দ্বন্দ্বে পরপর তিনবার বন্ধ হয়ে যায় ভোট। এমনকী মেয়র নির্বাচন নিয়ে হাউসের মধ্যেই আপ এবং বিজেপি কাউন্সিলারদের হাতাহাতির ছবি সামনে আসে। মূলত ঘটনার সূত্রপাত হয় রাজ্যপালের একটি সিদ্ধান্ত ঘিরে। পুরসভায় অল্ডারম্যান সদস্যদের নিয়োগ করা হয়। আর এই মনোনীত সদস্যদের শপথ নেওয়ার জন্যে প্রিসাইডিং অফিসার আমন্ত্রণ জানান। যদিও এই বিষয়ে সেই সময়ে আপের তরফে তীব্র আপত্তি জানানো হয়। কেন নির্বাচিত সদস্যদের ছেড়ে মনোনীত সদস্যদের শপথব পাঠ করানো হচ্ছে তা নিয়ে আপ এবং বিজেপির মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

কার্যত আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মনোনীত সদস্যদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। যেখানে কিনা মেয়র নির্বাচনে ওল্ডারম্যানদের ভোট দেওয়ার ক্ষমতাই নেই। যদিও এই বিষয়ে তৎকালীন দিল্লির উপ-রাজ্যপাল ভিকে সাক্সেনার কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিয়াল। এমনকি ১০ অল্ডারম্যানকে যেভাবে নিয়োগ করা হয়েছে তা অসংবিধানিক বলেও আবেদন করেন তিনি। যদিও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর এহেন আবেদন উপ-রাজ্যপাল কানেই তোলেন না বলেও অভিযোগ ওঠে।
আর এই বিষয়কে কেন্দ্র করে দিনের পর দিন পিছিয়ে যায় দিল্লি মেয়র নির্বাচন। যদিও পরে সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন বর্তমান দিল্লি পুরসভার মেয়র শেলি ওবেরয়। দীর্ঘ শুনানিতে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে মেয়র নির্বাচনে ওল্ডারম্যানদের ভোট দিতে পারবে না। শুধু তাই নয়, দ্রুত বৈঠক ডেকে ভট করানোর নির্দেশও দেয় আদালত। সেই মতো চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি ভোট হয়। এবং প্রত্যাশিত ভাবেই সেই সময় আপের তরফে শেলি ওবেরয় নির্বাচিত হন।

কিন্তু গত আর্থিক বছরের হিসাবে গত ৩১ মার্চ মেয়র হিসাবে শেলির মেয়ার উত্তীর্ন হয়েছে। এই অবস্থায় আজ ফের দিল্লি পুরসভাতে ভোট ছিল। দিল্লি পুরসভার নিয়ম বলছে, এক বছরের মেয়াদে প্রত্যেক মেয়র নির্বাচিত হয়ে থাকেন। ২৬৬ জন কাউন্সিলর পরবর্তী অর্থবর্ষের জন্য আবারও মেয়র ও ডেপুটি নির্বাচিত করে থাকেন নিয়ম অনুযায়ী। Delhi Municipal Corporation Act of 1957 অনুযায়ী এপ্রিল মাসে সেই ভৈট হওয়ার কথা। সেই মতোই এই ভোট এদিন হয়।
কিন্তু বিজেপির তরফে মেয়র এবং ডেপুটি মেয়র দুটি থেকে প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। আর তাতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেই সহজ জয় পান আপ নেত্রী শেলি।












Click it and Unblock the Notifications