কে হবেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী? শেষ মুহূর্তে তিন নেতাকে নিয়ে জোর আলোচনা কংগ্রেসে
কেরল বিধানসভা নির্বাচনে ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ)-এর নিরঙ্কুশ জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিতে কংগ্রেস হাইকমান্ড আরও একাধিক কেরল নেতাকে দিল্লিতে তলব করেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী দাবি এবং জোটসঙ্গীদের মধ্যে অস্বস্তির জেরে এই বিলম্ব সরকার গঠনের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার চাপ বাড়াচ্ছে। বর্তমান কেরল বিধানসভার মেয়াদ ২৩মে শেষ হতে চলেছে, যা এই চাপ আরও বৃদ্ধি করছে।
কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ কেরল বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও, রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন তা নিয়ে এখনও জল্পনা চলছে। দলীয় হাইকমান্ড এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। ৪মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হলেও, কংগ্রেস নেতৃত্ব এখনও তাদের পরিষদীয় দলের নেতার নাম ঘোষণা করেনি। এই বিলম্ব দলের অভ্যন্তরে এবং জোট শরিকদের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যখন দিল্লিতে পরামর্শ অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, কংগ্রেস হাইকমান্ড কেরলের একাধিক প্রবীণ নেতাকে দিল্লিতে ডেকে পাঠিয়েছে। সরকার গঠন এবং মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী নিয়ে তাদের মতামত জানতে এই তলব। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা এবং নির্বাচিত বিধায়ক কে মুরলীধরন, যিনি প্রাক্তন কেরল প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির (কেপিসিসি) সভাপতি, তাঁকে মঙ্গলবার দিল্লিতে এআইসিসি সদর দফতরে পৌঁছতে বলা হয়েছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মুরলীধরন জানান যে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কেরলের মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
মুরলীধরন ছাড়াও, দল কেপিসিসি-র সহ-সভাপতি এপি অনিল কুমার, শাফি পারাম্বিল এবং পিসি বিষ্ণুনাধ, এবং সঙ্গে প্রবীণ নেতা তিরুভানচুর রাধাকৃষ্ণণকেও দিল্লিতে আলোচনার জন্য ডেকে পাঠিয়েছে। এদিকে, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে তাঁর বেঙ্গালুরু সফর সংক্ষিপ্ত করে দিল্লি ফিরে আসছেন। কেরলের নেতাদের সঙ্গে হাইকমান্ডের বৈঠকে যোগ দিতেই তাঁর এই দ্রুত প্রত্যাবর্থন।
বর্তমান কেরল বিধানসভার মেয়াদ ২৩মে শেষ হতে চলেছে, তাই এই দীর্ঘ বিলম্ব কংগ্রেস নেতৃত্বের উপর দ্রুত আলোচনা শেষ করার চাপ বাড়াচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে বর্তমানে তিন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা রয়েছেন- রমেশ চেন্নিতলা, এআইসিসি-র সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কেসি ভেনুগোপাল এবং বিরোধী দলের নেতা ভিডি সতীশন। কংগ্রেস হাইকমান্ড শনিবার দিল্লিতে এই তিন নেতার সঙ্গেই বিস্তারিত আলোচনা করেছে।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে এবং রাহুল গান্ধীও সতীশন, ভেনুগোপাল, চেন্নিতলা, কেপিসিসি প্রধান সানি জোসেফ এবং কেরলের দায়িত্বপ্রাপ্ত এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক দীপা দাশমুন্সির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই বৈঠক পরিষদীয় দলের নেতা বেছে নেওয়ার চলমান প্রক্রিয়ার অংশ, যিনি অবশেষে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
সূত্রের খবর, অধিকাংশ কংগ্রেস বিধায়ক ভেনুগোপালকে এই শীর্ষ পদের জন্য সমর্থন করছেন বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের কাছে ভিডি সতীশনই বেশি জনপ্রিয় বলে গণ্য হচ্ছেন।
প্রবীণ কংগ্রেস নেতা রমেশ চেন্নিতলা সোমবার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্বকে দলের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন যে, কেরলের সব কংগ্রেস এবং ইউডিএফ কর্মী হাইকমান্ড শেষ পর্যন্ত যা সিদ্ধান্ত নেবে, তা মেনে নেবে। তিনি দিল্লি থেকে ফিরে এসে সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের যা বলার ছিল, হাইকমান্ডকে জানিয়েছি। তাঁরা সব শুনেছেন। বাকিটা তাঁদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়।”
১৪০ সদস্যের কেরল বিধানসভায় ইউডিএফ ১০২টি আসন পেয়ে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা সহজেই অতিক্রম করেছে। জোটের মধ্যে কংগ্রেস পেয়েছে ৬৩টি আসন, আইইউএমএল ২২টি, কেরল কংগ্রেস ৮টি এবং আরএসপি ৩টি আসন।












Click it and Unblock the Notifications