রাম মন্দির আন্দোলনের সাক্ষী থেকে রামলালার প্রধান সেবায়েত, কে ছিলেন এই আচার্য সত্যেন্দ্র দাস?
বুধবার সকালে অযোধ্যার রাম মন্দির হারাল তাঁদের অন্যতম অভিভাবককে। প্রধান পুরোহিত আচার্য সত্যেন্দ্র দাস ৮৭ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তিনি লখনউয়ের পিজিআই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আর আজ সকালে সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
রাম মন্দির বললেই তাঁর নামও মানুষের মুখে চলে আসত। কেননা আচার্য সত্যেন্দ্র দাস রাম মন্দির আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন। তিনি ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংস থেকে শুরু করে রাম মন্দির নির্মাণ পর্যন্ত সমগ্র আন্দোলন প্রত্যক্ষ করেছিলেন। তাঁর ভূমিকা শুধু পুরোহিতের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তিনি আন্দোলনের এক নীরব সাক্ষী ও পথপ্রদর্শকও ছিলেন। এই প্রতিবেদনে জানুন আচার্য সত্যেন্দ্র দাসের আর্চায্য হয়ে ওঠার কাহিনী।

- শৈশব, শিক্ষা ও অযোধ্যায় আগমন
সন্ত কবির নগরের এক ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণকারী সত্যেন্দ্র দাস ছোটবেলা থেকেই ধর্মপরায়ণ ছিলেন। পঞ্চাশের দশকে তিনি অযোধ্যায় আসেন এবং বিখ্যাত সাধক অভিরাম দাসের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সালে তিনি সন্ন্যাস গ্রহণ করে পুরোপুরি অযোধ্যায় বসবাস শুরু করেন।
১৯৭৫ সালে তিনি সংস্কৃত বিদ্যালয় থেকে 'আচার্য' উপাধি অর্জন করেন এবং পরে অযোধ্যার একটি সংস্কৃত কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। তাঁর ধর্মীয় জ্ঞান ও নিষ্ঠার কারণে তিনি অযোধ্যার ধর্মীয় মহলে অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন।
- রাম মন্দির আন্দোলনে ভূমিকা
১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সময় সত্যেন্দ্র দাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি রামলালার মূর্তি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যান এবং রাম জন্মভূমির প্রধান পুরোহিত হিসেবে নিযুক্ত হন। সেই সময় তাঁর প্রধান দায়িত্ব ছিল রামলালার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, "৬ ডিসেম্বর ১৯৯২ সকালে করসেবকদের আন্দোলন শুরু হলে আমাকে বলা হয় রামলালাকে খাবার দিয়ে পর্দা বন্ধ করতে। কিছুক্ষণের মধ্যেই করসেবকরা ব্যারিকেড ভেঙে বিতর্কিত কাঠামোতে পৌঁছে যায়। সেই সময় আমরা দ্রুত রামলালার মূর্তি সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাই"।
- প্রধান পুরোহিত হিসেবে দায়িত্ব
এরপর ১৯৯২ সালে রাম জন্মভূমির পুরোহিত হিসেবে নিযুক্ত হলে শুরুতে তাঁর মাসিক বেতন ছিল মাত্র ১০০ টাকা। পরবর্তীতে এই বেতন ১৩,০০০ থেকে বাড়িয়ে ৩৮,৫০০ টাকা করা হয়। ২৮ বছর তিনি তাঁবুতে এবং ৪ বছর অস্থায়ী মন্দিরে রামলালার সেবা করেছেন।
রাম মন্দির নির্মাণের পরেও তিনি প্রধান পুরোহিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। বার্ধক্যজনিত দুর্বলতা সত্ত্বেও, ট্রাস্ট তাঁকে মন্দির পরিদর্শন ও উপাসনার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিল। মন্দির নির্মাণের সময় তিনি বলেছিলেন, "আমি জানি না কতদিন রামলালার সেবা করতে পারব, কিন্তু যতদিন বেঁচে থাকব, সেবা চালিয়ে যাব"।
আর তিনি তাঁর কথা রেখেছেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত রামলালার সেবা করে গেছেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে অযোধ্যার ধর্মীয় মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাম মন্দির আন্দোলনে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেই মনে করছেন মন্দিরের সকলে।
-
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট -
ভবানীপুরে আজ শক্তি প্রদর্শনে বিজেপি, শুভেন্দুর মনোনয়নে সঙ্গী অমিত শাহ -
'খুব দ্রুত যুদ্ধ শেষ করব'! ইরান ইস্যুতে কড়া বার্তা মার্কিন প্রেসিডেন্টের, কী বললেন? -
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত! দেশের বিভিন্ন শহরে আই-প্যাকের দফতর ও ডিরেক্টরের বাসভবনে ইডি তল্লাশি -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
কালিয়াচক কাণ্ডে উত্তেজনা চরমে! বিচারকদের ঘেরাও-ভাঙচুরে তৃণমূলকে নিশানা সুকান্তর, কী বললেন দিলীপ? -
মালদহের অশান্তি নিয়ে বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলল মমতা, সুতির সভা থেকে শান্তির বার্তা -
৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, ৪ মহাকাশচারী নিয়ে নাসার 'আর্টেমিস ২'-এ ইতিহাসের নতুন অধ্যায় -
বসন্তের শেষে বাড়ছে পারদ! গরমে কী নাজেহাল হবে শহরবাসী? কী জানাচ্ছে হাওয়া অফিস? জানুন -
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে ফের অগ্নিগর্ভ মালদহ, সকালে ফের অবরোধ












Click it and Unblock the Notifications