Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

আমাদের জাতীয় সঙ্গীত কোনটি, কোনটিই বা জাতীয় স্তোত্র? জানেন সংবিধান কী বলছে

জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে সম্প্রতি বাংলায় শুরু হয়েছে এক দ্বন্দ্ব। কোনটি জাতীয় সঙ্গীত আর কোনটি জাতীয় স্তোত্র তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। উভয়ের মধ্যে কী পার্থক্য তা সঠিকভাবে জানেন কি? সম্প্রতি নানা মহলে নানা মতামত উঠে আসছে, এই অবস্থায় 'জনগণমন অধিনায়ক' আর 'বন্দেমাতরম'-এর পার্থক্য নিয়ে এই প্রতিবেদন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা 'জনগণমন অধিনায়ক'। সাংবিধানিকভাবে তা ন্যাশনাল অ্যান্থেমের স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু বাংলায় বা হিন্দিতে এই ন্যাশনাল অ্যান্থেমকে কী বলা হবে। বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায় জাতীয় সঙ্গীত। আবার জাতীয় স্তোত্র বললেও ভুল নয়। কিন্তু বাংলার কী বলা হবে, তা নিয়ে নানা মত উঠে এসেছে, শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতণ্ডা।

National flag

সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত জনগণমন হল ন্যাশনাল অ্যান্থেম। কিন্তু এর কোনো সুস্পষ্ট বাংলা বা হিন্দি নাম নেই। তাই আমরা একে জাতীয় সঙ্গীত বলতেই পারি। তাতে কোনো অসুবিধা নেই। যেহেতু বাংলা ভাষায় ন্যাশনাল অ্যান্থেমের কোনো অনুবাদ নেই, তাই জাতীয় সঙ্গীত ডাকা যেতেই পারে।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'বন্দে মাতরম' তাহলে কী? যেহেতু এটি ন্যাশনাল সং, সেহেতু এটিকেই জাতীয় সঙ্গীত বলা উচিত। সংবিধান বিশেষজ্ঞমহলের মতে, বিষয়টি ঠিক এভাবে ভাবলে হবে না। কারণ সংবিধানে বন্দে মাতরম সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। তাই সাংবিধানিকভাবে একে জাতীয় সঙ্গীত বলা যাবে না।

সংবিধান রচনার সময় জনগণমনকেই জাতীয় সঙ্গীত বা ন্যাশনাল অ্যান্থেমের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়, জনগণমনের লেখনীতে দেশের সাংস্কৃতিক ও ভৌগলিক বৈচিত্র সঠিক ভাবে চিত্রায়িত হয়েছে। এটি দেশের ঐতিহ্যের পরিচায়কও বটে।

এখন ভাষাগত বিভেদের জন্য যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে তার অবসান কীভাবে সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, জনগণমনকে জাতীয় সঙ্গীত বলা বা লেখা যেতেই পারে। তবে তার পাশে ন্যাশনাল অ্যান্থেম লিখে দিলেই ধন্দের অবসান হতে পারে। জনগণমনের স্বীকৃতি রয়েছে, বন্দেমাতরমের তা নেই। পার্থক্য শুধু এখানেই।

অনেকে আবার বলেন, জনগণমনকে জাতীয় সঙ্গীত বললে বন্দেমাতরমকে দ্বিতীয় জাতীস সঙ্গীত বলা যেতে পারে। কিন্তু তা স্বীকৃত নয়। আবার কেউ কেউ এটাতে জাতীয় শ্লোক বা জাতীয় স্তোত্র বলার পক্ষপাতী। শুধু জনগণমনের সঙ্গে আলাদা বোঝাতেই এই পৃথক নামের পক্ষপাতী অনেকে।

National flag

উইকিপিডিয়াতেও জনগণমণকে জাতীয় সঙ্গীত রা রাষ্ট্রগান বা ন্যাশনাল অ্যান্থেম বলা হয়েছে। আর বন্দেমাতরমকে জাতীয় স্তোত্র বা রাষ্ট্রগীত বা ন্যাশনাল সং বলা হয়েছে। ১৯১১ সালে কলকাতায় আয়োজিত ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের ২৬তম বার্ষিক অধিবেশনে প্রথম গাওয়া হয়েছিল জনগণমন

১৯৩৭ সালে প্রথম জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে জনগণমন গানটি প্রস্তাব করেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে জাতীয় সঙ্গীতের রেকর্ড চাওয়া হলে বাজানো হয়ে জনগণমন গানটি। ১৯৫০-এর ২৪ জানুয়ারি জনগণমনকে জাতীয় সঙ্গীত বা ন্যাশনাল অ্যান্থেমের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

National flag

আর বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা বন্দেমাতরম প্রথম গাওয়া হয়েছিল ১৮৯৬ সালে জাতীয় কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনে। প্রথমে তা জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে মান্যতা পেলে পরে বন্দেমাতরমের জায়গায় জনগণমনকেই জাতীয় সঙ্গীত বা ন্যাশনাল অ্যান্থেমের মর্যাদা দেওয়া হয়। বন্দেমাতরম শুধু জাতীয় গান হিসেবে রয়েছে যায়। জাতীয় শ্লোক বা জাতীয় স্তোত্রও অনেকে বলে।

সঙ্গীত আর গীত প্রায় সমার্থক শব্দ। সঙ্গীত হল যে গান সংগত বা সন্নিবেশিত বা বাদ্যসহযোগে গাওয়া হয়। আর গান হল বাদ্য সহযোগ ছাড়াই গাওয়া। অর্থাৎ তাকে শ্লোক বা স্তোত্রও বলা যায়।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+