বিহারের ভোটে জন সুরাজ কোথায় হারাল? প্রশান্ত কিশোরের উচ্চাভিলাষী সূচনা কেন ব্যর্থতার ছবিই দেখাল?
বিহার বিধানসভা ভোটের গণনায় সকাল থেকেই স্পষ্ট রাজ্যের দুই প্রধান জোটই লড়াইয়ের ময়দানে আধিপত্য বিস্তার করছে। এনডিএ জোট প্রাথমিক মুহূর্ত থেকেই সংখ্যাগরিষ্ঠতার গণ্ডি পেরিয়ে এগিয়ে চলেছে। বিজেপি ও জেডিইউ দুই সঙ্গীই ভালো লড়াই দিচ্ছে। অন্যদিকে মহাজোট পিছিয়ে পড়লেও আরজেডি তুলনামূলকভাবে বেশি ভালো করছে, যদিও এনডিএর বিস্তৃত প্রভাবের সামনে তা যথেষ্ট নয়। এখনও পর্যন্ত এনডিএ 206, ইন্ডিয়া জোট 30,অন্যান্য 7 ।
কিন্তু এই চিত্রের মাঝেই বড় প্রশ্ন, জন সুরাজ কোথায়? প্রশান্ত কিশোরের দল কি আদৌ দেখাযাবে? প্রবণতায় নেই জন সুরাজ, নতুন দল হিসেবে প্রশান্ত কিশোর বড়সড় প্রত্যাশা তৈরি করেছিলেন। রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কার ও জনমুখী রাজনীতির প্রতিশ্রুতিও ছিল। কিন্তু ভোটের হিসেব বলছে অন্য কথা। আসন তালিকায় জন সুরাজ কার্যত অদৃশ্য। যে কয়েকটি কেন্দ্রে সামান্য ভোট ধরা পড়ছে, তা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ব্যবধানেও প্রভাব ফেলতে পারছে না।

প্রশান্ত কিশোর নিজে ভোটে লড়েননি। তাই তাঁর দলের ভোট শেয়ারই নির্ধারণ করবে বিহারের দুই বড় শিবির এনডিএ বা মহাজোট কারও ভোটব্যাঙ্কে তারা কোনও প্রভাব ফেলতে পেরেছে কি না।
এক নজরে নির্বাচনী বছর অনুযায়ী বিহারের ফল 2005 সালে আরজেডি 23.46%, জেডিইউ 20.46%, বিজেপি 15.65% কংগ্রেস 6.09%, 2010 সালে আরজেডি 18.84%, জেডিইউ 22.58%, বিজেপি
16.49%, কংগ্রেস 8.37%, 2015 সালে আরজেডি 18.35%, জেডিইউ 16.83%, বিজেপি 24.42%, কংগ্রেস 6.66%, 2020 সালে আরজেডি 23.11%, জেডিইউ 15.39%, বিজেপি 19.46%, কংগ্রেস 9.48% ।
এবারের ছবি দেখাচ্ছে এনডিএর দাপট, 243 আসনের বিধানসভায় যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতার লক্ষ্যমাত্রা 122, সেখানে এনডিএ একেবারে ঝড় তুলে এগোচ্ছে। অনেক কেন্দ্রেই বিজেপি ও জেডিইউ একসঙ্গে ব্যাপক ব্যবধানে লিড নিচ্ছে।
মহাজোটের গতি মন্থর, আরজেডি তুলনামূলকভাবে ভালো করলেও কংগ্রেসের দুর্বল পারফরম্যান্স পুরো জোটের গতি কমিয়ে দিয়েছে।
জন সুরাজ হয়েও নেই, দলটি এমনভাবে ছিটকে গেছে যে প্রাথমিক সিট চার্টেও তাদের উপস্থিতি ধরা পড়ছে না। বিহারের আসন চিত্র বিভিন্ন বছরের তুলনায় 2005 সালে আরজেডি 75, জেডিইউ 55, বিজেপি 37, কংগ্রেস 0 ।
2010 সালে আরজেডি 22, জেডিইউ 115, বিজেপি 91, কংগ্রেস 4 । 2015 সালে আরজেডি 80, জেডিইউ 71, বিজেপি 53, কংগ্রেস 27। 2020 সালে আরজেডি 75, জেডিইউ 43, বিজেপি 74, কংগ্রেস 19।
বর্তমান প্রবণতা এনডিএ 198, এমজিবি 38, অন্যান্য 7 । বিজেপির প্রার্থী তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল প্রথম দফায় ৭১ জনের নাম ঘোষণা, ডেপুটি সিএম সম্রাট চৌধুরী তারাপুর, বিজয় সিনহা লখিসরাই, প্রাক্তন ডেপুটি সিএম রেণু দেবী বেতিয়া, তরকিশোর প্রসাদ কাঠিহার,
লালুর ঘনিষ্ঠ ছিলেন এমন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাম কৃপাল যাদব ফিরলেন, লড়ছেন দানাপুর থেকে। এছাড়াও ৯ জন মহিলা প্রার্থী,স্পিকার নন্দকিশোর যাদব বাদ তা নিয়ে জল্পনা।
প্রশান্ত কিশোর ব্যক্তিগতভাবে আগেই ঘোষণা করেছিলেন দল আশানুরূপ ফল না করলে সেটাকে তিনি ব্যক্তিগত পরাজয় হিসেবে গণ্য করবেন।
এক্সিট পোল অবশ্য তাদের নিয়ে আশাবাদী ছিল না। বেশিরভাগ সমীক্ষাই জানিয়েছিল সর্বোচ্চ ৫টি আসনও পেতে পারে না দলটি। জন সুরাজ এনডিএ বা মহাজোটের ভোটে বড় কোনও ক্ষত তৈরি করতে পারবে কিনা, সেটাই এখন নজরকাড়া বিষয়।
দল গঠন, প্রচার, ময়দানে মানুষের সঙ্গে সংযোগ সব মিলিয়ে প্রশান্ত কিশোরের জন সুরাজকে ঘিরে প্রত্যাশা কম ছিল না। কিন্তু ভোটের প্রবণতা প্রমাণ করছে বিহারের মূল রাজনৈতিক লড়াইয়ের বাইরে এখনও বেশ খানিকটা দূরেই রয়েছে এই নবাগত দল।












Click it and Unblock the Notifications