দিনে ২১ হাজার বার শ্বাস নিই, এয়ার পিউরিফায়ারের উপর সাময়িকভাবে জিএসটি কমানোর আর্জি আদালতের

দিল্লির দমবন্ধ করা বায়ু পরিস্থিতি নিয়ে এবার কড়া অবস্থান নিল দিল্লি হাই কোর্ট। বুধবার শুনানিতে আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিল একজন মানুষ দিনে প্রায় ২১ হাজার বার শ্বাস নেয়, সেই শ্বাস যদি বিষাক্ত হয়, তার দায় কে নেবে? এমন প্রশ্ন তুলে আদালত কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে, এয়ার পিউরিফায়ারের উপর ১৮ শতাংশ জিএসটি কেন এখনই কমানো যাচ্ছে না, যখন রাজধানী কার্যত বায়ু জরুরি অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।

প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় ও বিচারপতি তুষার রাও গেদেলার ডিভিশন বেঞ্চ একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি করছিল। ওই মামলায় দাবি করা হয়েছে, এয়ার পিউরিফায়ারকে চিকিৎসা সরঞ্জাম হিসেবে পুনর্বিন্যাস করা হোক, যাতে তা ৫ শতাংশ জিএসটি স্ল্যাবের আওতায় আসে।

কেন্দ্রের তরফে আরও সময় চাওয়া হলে আদালত তাতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে,
"'যথাসময়ে' বলতে কী বোঝাচ্ছেন? হাজার হাজার মানুষ মারা গেলে? এই শহরের প্রতিটি নাগরিক পরিষ্কার বাতাসের অধিকারী। সেটা দিতে না পারলে অন্তত এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহারের সুযোগ তো দিতে পারেন।"

আদালত আরও জানায়, সরকার যদি দূষণ নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি সফল না-ই হয়, তাহলে সাধারণ মানুষকে অন্তত ঘরের ভেতরে নিরাপদ বাতাস পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়াই ন্যূনতম দায়িত্ব। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আজ দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে।
এই জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেছেন আইনজীবী কপিল মদন। তাঁর যুক্তি, দিল্লির ভয়াবহ বায়ু দূষণের প্রেক্ষিতে এয়ার পিউরিফায়ার কোনও বিলাসবস্তু নয়, বরং জীবনের জন্য অপরিহার্য।

অথচ বর্তমানে এই যন্ত্রের উপর ১৮ শতাংশ হারে জিএসটি আরোপ করা হচ্ছে।
মামলায় বলা হয়েছে, চরম দূষণের সময় এয়ার পিউরিফায়ারকে বিলাসপণ্য হিসেবে দেখা সম্পূর্ণ অবাস্তব। নিরাপদ ঘরোয়া বাতাস এখন স্বাস্থ্য ও বেঁচে থাকার শর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। উচ্চ করের ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে এই যন্ত্র আর্থিকভাবে অধরা থেকে যাচ্ছে, যা সংবিধানবিরোধী ও অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করছে।

এছাড়াও আবেদনকারীর দাবি, কেন্দ্রের ২০২০ সালের এক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এয়ার পিউরিফায়ারকে চিকিৎসা সরঞ্জামের সংজ্ঞার মধ্যেই ফেলা যায়, কারণ এটি শ্বাস প্রশ্বাস নিরাপদ রাখতে সাহায্য করে ও দূষণের প্রাণঘাতী প্রভাব কমায়।
আবেদনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, যখন বহু চিকিৎসা স্বীকৃত যন্ত্র কম করের আওতায় পড়ে, তখন এয়ার পিউরিফায়ারের উপর সর্বোচ্চ হারে জিএসটি আরোপ সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও অযৌক্তিক।

এখন দেখার, আদালতের এই কড়া বার্তার পর কেন্দ্র সরকার আদৌ কোনও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ করে কি না।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+