জাতীয় সঙ্গীত খণ্ডিত হওয়াই কি বিভাজনের শুরু? 'বন্দে মাতরম্' নিয়ে বড় মন্তব্য অমিত শাহের
রাজ্যসভায় তীব্র ভাষণে ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ টেনে আনলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল 'বন্দে মাতরম্' জাতীয় চেতনা ও রাজনীতির টানাপোড়েন। শাহের দাবি, তুষ্টিকরণের রাজনীতি শুরু হয়েছিল সেদিনই, যেদিন 'বন্দে মাতরম্' কে খণ্ডিত করা হয়। তাঁর মতে, আপসের নামে তখন যদি জাতীয় সঙ্গীতকে ভাঙা না হতো, তবে দেশের ভাগ্যও হয়তো ভিন্ন পথে যেত।
সভায় দাঁড়িয়ে অমিত শাহ বলেন, 'বন্দে মাতরম্' শুধুই অতীতের স্মৃতি নয় এটি ভারতের আত্মপরিচয়ের অংশ। কংগ্রেসের কয়েকজন সাংসদ নাকি প্রশ্ন তুলেছেন, আজ কেন এই গান নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন? জবাবে শাহ স্পষ্ট করে দেন, জাতীয় প্রতীককে রাজনৈতিক সুবিধার জন্য দুর্বল করা যায় না। তাঁর কথায়, সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল এক আদর্শিক বিচ্যুতি, যার পরিণতি ছিল দেশের বিভাজন।

তিনি আরও বলেন, সরকার আলোচনাকে কখনও এড়িয়ে যায় না। সংসদ চলতে দিলে যে কোনও বিষয়েই বিতর্ক হতে পারে। সংসদ বয়কট করার সংস্কৃতি তাঁদের নয় এই বার্তাও দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
কংগ্রেসের দিকে আঙুল তুলে শাহ অভিযোগ করেন, ঐতিহাসিকভাবেই দলটির অস্বস্তির শিকড় 'বন্দে মাতরম্' এর সঙ্গে জড়িত। তাঁর দাবি, জওহরলাল নেহরুর আমলেই জাতীয় সঙ্গীতের পরিসর দুটি স্তবকে সীমাবদ্ধ করা হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত আজও দলের অবস্থানকে প্রভাবিত করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আলোচনাকে নির্বাচনী রাজনীতির সঙ্গে জুড়ে দেখার সমালোচনাও করেন অমিত শাহ।
২০২৪ বা বাংলার ভোটের প্রসঙ্গ টেনে আনা মানে জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদাকে খাটো করা এমনটাই বলেন তিনি। স্মরণ করিয়ে দেন, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাঙালি হলেও 'বন্দে মাতরম্' কখনও কোনও রাজ্য বা অঞ্চলে আবদ্ধ ছিল না, এটি গোটা দেশের। ভাষণের শেষভাগে আবেগের সুর। সীমান্তে শহিদ জওয়ান কিংবা দেশের ভেতরে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীর আত্মবলিদানের মুহূর্তে যে ধ্বনি উঠে আসে তা 'বন্দে মাতরম্'।
অমিত শাহের বক্তব্য, এই আলোচনা অতীতে ফিরে যাওয়ার জন্য নয়, বরং ২০৪৭ এর ভারতের স্বপ্নকে সামনে রেখে জাতীয় গর্বকে নতুন করে দৃঢ় করার জন্য। তাঁর কণ্ঠে স্পষ্ট বার্তা যে রাজনীতি দেশের ঐক্যে ফাটল ধরায়, তাকে আর প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।












Click it and Unblock the Notifications