আদালত অবমাননার মামলায় করতে হবে অনুশোচনা প্রকাশ! বিবেক অগ্নিহোত্রীকে নির্দেশ দিল্লি হাইকোর্টের
আদালতে হাজির হয়ে নিজের মন্তব্যের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করতে হবে। কাশ্মীর টাইমের ফাইলের অপরাধ বিবেক অগ্নিহোত্রীকে এমন নির্দেশক দিল্লি হাইকোটার। প্রসঙ্গ ২০১৮ সালে টুইটারে এস মুরলী ধর সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য বিবেক অগ্নিহোত্রী।
পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রীকে বলা হয়েছে ১০ এপ্রিল দিল্লি আদালতে হাজিরা দিতে। সেই মতো তিনি হাজিরা দেবেন বলেও জানা গিয়েছে। যে বিচারপতির বিরুদ্ধে বিবেক অগ্নিহোত্রীর বিতর্কিত মন্তব্য, সে বিচারপতি এস মুরলীধর বর্তমানে ওড়িশা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি।

প্রসঙ্গত এস মুরলীধর যখন দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ছিলেন, সেই সময় অর্থাৎ ২০১৮-তে তিনি ভীমা কোরেগাঁও মামলার প্রধান অভিযুক্ত গৌতম নভলাখাকে জামিন দিয়েছিলেন। এরই প্রতিবাদে টুইট করেছিলেন বিবেক।
এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে বিচারপতি এস মুরলীধর গৌতম নভলাখার গৃহবন্দি ও ট্রানজিট রিমান্ড বাতিল করেছিলেন। তারপরেই বিচারপতি এস মুরলীধর সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন বিবেক অগ্নিহোত্রী। তবে আদালত অবমাননার অভিযোগ উঠতেই তিনি সেইসব টুইট ডিলিট করে দেন।
এরপরেও আদালত তাঁকে ২০২৩-এর ১৬ মার্চ আদালতে হাজিরার নির্দেশ দেয়। যদিও তিনি সেদিন আদালতে হাজিরা দেননি। তারপর আদালতের তরফে বিবৃতি জারি করা হয়। বলা হয়, তাঁকে আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে, কারণ তিনি আদালত অবমাননা করেছেন।

আদালতের তরফে বলা হয়, ব্যক্তিগত অনুশোচনা প্রকাশ করতে হবে। শুধুমাত্র হলফনামার মাধ্যমে অনুশোচনা প্রকাশ করা যাবে না। এরপরেই আদালত বিবেক অগ্নিহোত্রীকে ১০ এপ্রিল আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়।
কাশ্মীর ফাইলসের পরিচালক টুইটে লিখেছিলেন, বিচারপতি এস মুরলীধরের স্ত্রী উষ রামানাথন গৌতম লাভলাখার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বিবেকের এই টুইটের জেরেই আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। উল্লেখ করা প্রয়োজন, বিচারপতি এস মুরলীধর ২০০৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি ছিলেন। তারপর তাঁকে ওড়িশা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি করা হয়।
১৮১৮ সালের ১ জানুয়ারি ভীমা-কোরেগাঁও যুদ্ধে ব্রিটিশরা দ্বিতীয় পেশওয়া বাজিরাওয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভ করেছিল। পরে ব্রিটিশরা কোরেগাঁওতে জয়স্বম্ভ তৈরি করে দেয়। যুদ্ধে দলিতরা অংশ নেওয়ায় তা পরবর্তী সময়ে দলিতদের প্রতীকেও পরিণত হয়।
২০১৮-র ১ জানুয়ারি ভীমা কোরেগাঁওয়ের ২০০ তম বার্ষিকী উপলক্ষে এলগার পরিষদ সেখানে একটি সভার আয়োজন করেছিল। সেই সভায় গৌতম লভলাখার বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখার অভিযোগ ওঠে। কেননা সেই সভার পরেই এলাকায় হিংসা ছড়িয়ে পড়ে।
{দস্তাবেজ1}












Click it and Unblock the Notifications