কলকাতা ও সন্নিহিত অঞ্চলে জোরকদমেই মেট্রোর সম্প্রসারণ, তবে রাজ্যের ভূমিকায় আটকেও আছে কাজ, জানালেন রেলমন্ত্রী
কলকাতা ও সন্নিহিত এলাকায় চারটি মেট্রো করিডর জুড়ে ৫২ কিলোমিটার অংশের নির্মাণ কাজ চলছে। এর মধ্যে ২০ কিলোমিটারের কাজ রাজ্য সরকারের জমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরের জটিলতায় থমকে রয়েছে। আজ লোকসভায় এ কথা জানালেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।
লিখিত উত্তরে মন্ত্রী জানান, প্রথম করিডরের ৭.৭৪ কিলোমিটার দীর্ঘ জোকা-মাঝেরহাট অংশটি চালু হলেও, মাঝেরহাট থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত ৬.২৬ কিলোমিটারের বাকি কাজ চলছে। খিদিরপুর মেট্রো স্টেশনের জন্য রাজ্য সরকার জুলাই মাসে পাঁচ বছর পর ইউটিলিটি সরানোর ও ট্র্যাফিক ডাইভারশনের অনুমোদন দিয়েছে। তবে, এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশনের নির্মাণকাজে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের জমিতে থাকা বি সি রায় মার্কেটের ৫২৮টি অবৈধ দোকানের অস্থায়ী স্থানান্তর সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে অমীমাংসিত রয়েছে।

নিউ গড়িয়া ও দমদম বিমানবন্দর সংযোগকারী ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ করিডরের ৯.৮ কিলোমিটার নিউ গড়িয়া-বেলগাছিয়া অংশটি চালু হয়েছে। বেলগাছিয়া থেকে দমদম বিমানবন্দর পর্যন্ত ২২.২ কিলোমিটার অংশের কাজ শুরু হলেও, ভায়াডাক্ট সেগমেন্ট বসানোর জন্য চিংড়িঘাটা মোড়ে অস্থায়ী ট্র্যাফিক ডাইভারশনের অভাবে এই কাজে দেরি হচ্ছে।
১৮ কিলোমিটার নোয়াপাড়া-বারাসাত মেট্রো করিডরের মধ্যে ৬.৭৭ কিলোমিটার নোয়াপাড়া-জয় হিন্দ বিমানবন্দর অংশটি চালু হয়েছে। জয় হিন্দ বিমানবন্দর থেকে মাইকেল নগর পর্যন্ত কাজ এগোচ্ছে। রেলমন্ত্রী আরও জানান, "নিউ ব্যারাকপুর থেকে বারাসত (৭.৫ কিমি) পর্যন্ত কাজ জমি অধিগ্রহণ ও বেআইনি দখলদারির কারণে থমকে আছে।"
একইভাবে, ১৪.৫ কিলোমিটার দক্ষিণেশ্বর-বরানগর-ব্যারাকপুর মেট্রো করিডরের বরানগর-দক্ষিণেশ্বর (২ কিমি) অংশটি চালু হয়েছে। রাজ্য সরকারি কর্তৃপক্ষের ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ বাকি থাকায় বারানগর থেকে ব্যারাকপুর পর্যন্ত নির্মাণ কাজ আটকে রয়েছে।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ১৯৭২ সালে কলকাতায় মেট্রো প্রকল্প শুরু হলেও ৪২ বছরে মাত্র ২৮ কিলোমিটার চালু হয়েছিল। এর বিপরীতে, গত ১১ বছরে (২০১৪ থেকে ২০২৫) ৪৫ কিলোমিটার মেট্রো পথ পরিষেবা শুরু হয়েছে, যা প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নির্দেশ করে।












Click it and Unblock the Notifications