অস্পষ্ট ও অপব্যবহারের আশঙ্কা, জাতিভিত্তিক বৈষম্য রোধে নতুন ইউজিসি বিধিতে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের
নতুন জাতিভিত্তিক বৈষম্য রোধ সংক্রান্ত ইউজিসি বিধির কার্যকারিতা আপাতত স্থগিত করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিধির ভাষা অস্পষ্ট ও তা সমাজে বিভাজন তৈরি করতে পারে, এই আশঙ্কাতেই বৃহস্পতিবার হস্তক্ষেপ করল শীর্ষ আদালত। কেন্দ্র সরকার ও ইউজিসি কে নোটিশ জারি করে আদালত জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই বিতর্কিত নিয়ম কার্যকর হবে না।
চলতি মাসের শুরুতেই ইউজিসি নতুন এই বিধি জারি করে, যেখানে দেশের সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে 'ইক্যুইটি কমিটি' গঠনের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়। এই কমিটির কাজ হবে বৈষম্য সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা এবং ক্যাম্পাসে অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ গড়ে তোলা। নিয়ম অনুযায়ী, কমিটিতে ওবিসি, তফশিলি জাতি, তফশিলি উপজাতি, প্রতিবন্ধী ও মহিলা প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

তবে সমস্যার মূল জায়গা তৈরি হয়েছে এখানেই। নতুন বিধিতে সাধারণ শ্রেণির পড়ুয়াদের অভিযোগ জানানোর সুযোগ রাখা হয়নি। এই 'বাছাই করা সুরক্ষা ব্যবস্থা' নিয়েই আদালতে একাধিক মামলা দায়ের হয়। বিভিন্ন রাজ্যে ছাত্র আন্দোলনও শুরু হয়, অভিযোগ ওঠে এই নিয়ম অপব্যবহারের রাস্তা খুলে দিতে পারে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানায়, এই নির্দেশিকা সমাজকে বিভক্ত করতে সক্ষম ও এর প্রভাব হতে পারে সুদূরপ্রসারী ও মারাত্মক। আদালত জানিয়েছে, ২০১২ সালের যে নির্দেশিকা শুধুমাত্র পরামর্শমূলক ছিল, আপাতত সেটিই বহাল থাকবে।
শুনানিতে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "আমরা যদি এখন হস্তক্ষেপ না করি, তাহলে এর প্রভাব বিপজ্জনক হতে পারে। সমাজে বিভাজন তৈরি হবে।" পাশাপাশি তিনি মন্তব্য করেন, বিধির ভাষা এতটাই অস্পষ্ট যে বিশেষজ্ঞদের দিয়ে তা পুনর্বিবেচনা করা জরুরি, যাতে কেউ এর সুযোগ নিতে না পারে।
আবেদনকারীদের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, এসসি, এসটি বা ওবিসি নন এমন পড়ুয়াদের এই বিধি সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করছে। তাঁদের দাবি, এই ধরনের নির্বাচনী কাঠামো সংরক্ষণহীন শ্রেণির বিরুদ্ধে বিদ্বেষ উসকে দিতে পারে ও সমতার বদলে বিভাজনের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। সংবিধানের উল্লেখ করে তাঁরা বলেন, "সব নাগরিকেরই সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।"
শুনানির সময় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি বিশ্ববিদ্যালয়ে "স্বাধীন ও ন্যায্য পরিবেশ" বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। তিনি বৈষম্যের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা ধারা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ও কেন ২০২৬ সালের বিধিতে র্যাগিং বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, সিনিয়র আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিংহ, যিনি শক্তিশালী জাতিভিত্তিক বৈষম্য বিরোধী বিধির পক্ষে সওয়াল করেন, বলেন এই নিয়ম সংবিধানের সমতার দর্শন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের লক্ষ্য থেকেই তৈরি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই ইউজিসি এই বিধি প্রণয়ন করে। সেই মামলাটি দায়ের করেছিলেন রোহিত ভেমুলা ও পায়েল তাডভির মা রাধিকা ভেমুলা ও আবেদা সালিম তাডভি।
জাতিগত বৈষম্যের চাপে আত্মহত্যা করা এই দুই ছাত্রের ঘটনার পর ক্যাম্পাসে বৈষম্য বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা চাওয়া হয়েছিল।
-
আরও একটি সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন, আর কত নাম নিষ্পত্তি হওয়া বাকি? -
বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী -
ভোটের আগেই কমিশনের কড়া নির্দেশ! অনুমতি ছাড়া জমায়েত নয়, নিয়ম ভাঙলেই গ্রেফতার, রাজ্যজুড়ে জারি কঠোর নির্দেশ -
দাগি নেতাদের নিরাপত্তা কাটছাঁট কতটা মানল পুলিশ? স্টেটাস রিপোর্ট চাইল নির্বাচন কমিশন -
যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই বড় রদবদল! মার্কিন সেনা প্রধানকে সরাল ট্রাম্প প্রশাসন, কারণ কী, জল্পনা তুঙ্গে -
আরও একটি মার্কিন F-35 যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের, কী বলছে আমেরিকা? -
এপ্রিলে শক্তিশালী ত্রিগ্রহী যোগ, শনি-সূর্য-মঙ্গলের বিরল মিলনে কাদের থাকতে হবে সতর্ক? -
এপ্রিলেই বাড়ছে গরমের দাপট! আগামী সপ্তাহেই ৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ার আশঙ্কা, কী জানাচ্ছে হাওয়া অফিস -
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব! শিল্পে ধাক্কা, একলাফে বাড়ল ডিজেলের দাম, কত হল? জানুন -
পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ভোটের আগে তৃণমূলের দুই হেভিওয়েট নেতাকে ইডির তলব -
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ! MRI Scan-এর খরচ আকাশছোঁয়া হতে পারে, বিপাকে পড়তে পারেন রোগীরা -
অমিত শাহের রাজ্যে থাকার ঘোষণায় তীব্র কটাক্ষ মমতার, বললেন, যত বেশি থাকবে, তত ভোট কমবে












Click it and Unblock the Notifications