অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ! সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছেন উদ্ধব ঠাকরে
মহারাষ্ট্র বিধানসভার অধ্যক্ষ মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের শিবসেনাকে আসল হিসেবে ঘোষণা করেছেন। যা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে। মহারাষ্ট্র বিধানসভার অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তকে গণতন্ত্রের হত্যা বলে বর্ণনা করেছেন এবং বিষয়টিকে সুপ্রিম কোর্টের প্রতি অবমাননা বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। প্রসঙ্গত উদ্ধব ঠাকরে ২০২২ সালে বিজেপির সমর্থনে একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বে বিদ্রোহের মধ্যে পদত্যাগ করেছিলেন।
মহারাষ্ট্র বিধানসভার অধ্যক্ষ রাহুল নারওয়েকর মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের পক্ষে রায় দিতে গিয়ে জানিয়েছেন, ২০২২ সালে বিরোধের সময় থেকে তার শিবসেনা দল আসল। পাশাপাশি বিধানসভার অধ্যক্ষ শিন্ডে-সহ ১৬ শিবসেনা বিধায়ককে অযোগ্য ঘোষণার জন্য উদ্ধর ঠাকরে গোষ্ঠীর আবেদনও খারিজ করে দিয়েছেন। এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ার এব্যাপারে উদ্ধব ঠাকরেকে অধ্যক্ষের রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

বিধানসভার অধ্যক্ষ বলেছেন, সংবিধানের ১০ তম তফশিলের বিধান দলীয় নেতৃত্ব দলের মতবিরোধ বা শৃঙ্খলার জন্য ব্যবহার করতে পারবে না। সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন এব্যাপারে কোনও বিধায়ককে অযোগ্য ঘোষণা করা হচ্ছে না।
অধ্যক্ষ রাহুল নারওয়েকর জানিয়েছেন, দল থেকে কাউকে সরিয়ে দেওয়ার কোনও ক্ষমতা নেই শিবসেনা প্রধানের। দলীয় প্রধানের ইচ্ছা ও দল সমার্থক, সেই যুক্তি তিনি খণ্ডন করেছেন। তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে ১৯৯৯ সালে জমা দেওয়া দলীয় সংবিধানকে বহাল রেখেছেন।
এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে শিবসেনা ইউটিবি নেতা সঞ্জয় রাউত এর পিছনে বিজেপির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, বিজেপি এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাবে। প্রসহ্গত ২০২২-এর জুন মাসে শিবসেনায় বিরোধ দেখা দেয়। সেই সময় শিন্ডে গোষ্ঠীর পক্ষে ৫৪ বিধায়কের মধ্যে ৩৭ জনের সমর্থন ছিল। পরবর্তী সময়ে শিন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হন এবং এনসিপি ভেঙে অজিত পাওয়ার গোষ্ঠীর নেতা অজিত পাওয়ার উপমুখ্যমন্ত্রী হন।
সর্বোচ্চ আদালত শিন্ডেকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিল। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন শিন্ডে গোষ্ঠীকে শিবসেনা নাম ও প্রতীক হিসেবে তির ও ধনুক বরাদ্দ করেছিল। অন্যদিকে উদ্ধব গোষ্ঠীর নাম শিবসেনা ইউটিবি দিয়ে জ্বলন্ত মশাল প্রতীক হিসেবে দিয়েছিল।
সামনেই লোকসভা নির্বাচন। বছরের শেষের দিকে রয়েছে মহারাষ্ট্র বিধানসভার নির্বাচন। তার আগে বছরের শুরুতে মহারাষ্ট্র বিধানসভা অধ্যক্ষের সিদ্ধান্তে এক নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।












Click it and Unblock the Notifications