Pahalgam Terror Attack: পহেলগাঁওয়ের মনোমুগ্ধকর পরিবেশ পুনের দুই পরিবারের জন্য দুঃস্বপ্নে পরিণত হল, কীভাবে

ছুটি কাটাতে সকলেই কিন্তু নীল আকাশ, সবুজ ঘেরা নৈস্বর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে জম্মু-কাশ্মীরের কথাই ভাবেন অর্থাৎ এখানকার সৌন্দর্য এতটাই সুন্দর যে কিছুদিন শান্তিতে সকলেই ছুটি কাটাতে চান। আর এই কারণেই কিন্তু বহু পর্যটক সকলেই কাশ্মীরে ঘুরতে গিয়েছিলেন। যখন কাশ্মীরের সৌন্দর্য সকলে উপভোগ করছিলেন, তখন পর্যটকেরা আচমকাই গুলির শব্দ শুনতে পান।

আর প্রাণভয়ে পর্যটকেরা ছুটে পালাবার চেষ্টা করতে থাকেন। নিজেদের জীবনকে বাঁচাতে তখন মরিয়া প্রায় সকলেই! তবে অনেকেরই কিন্তু শেষ পর্যন্ত শেষ রক্ষা হয়নি। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন অনেক পর্যটকেরাই। আহতের সংখ্যা নেহাতই কম নয়। জঙ্গিরা গুলি চালিয়ে বহু মানুষকেই আহত করেছে। আর এই ঘটনায় ২৬ জন নিহতও হয়েছেন।

Ambulance jk


জঙ্গিদের হাত থাকে রক্ষা পেল না পুনের দুই পরিবারও। চোখের সামনে বাবা, কাকার মৃত্যু দেখতে হল এক তরুণীকে। কী মর্মান্তিক পরিণতি হল তাঁদের, শুনলে চমকে যাবেন আপনিও!

পরিবার নিয়ে পুনের এক ব্যক্তি সন্তোষ জগদলে মঙ্গলবার পহেলগাঁওতে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন একটু শান্তিপূর্ণভাবে পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাবেন। বোধহয় তার কপালে সেই সুখ ছিল না! মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে পর্যন্ত এই সন্তোষ জগদলে ছুটির আমেজ ও নৈস্বর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করছিলেন। তবে চোখের সামনে বাবাকে জঙ্গিদের গুলিতে খুন হতে দেখেন তার মেয়ে। তার মেয়ের নাম আশাবরী জগদলে। এদৃশ্য ভোলার নয়! তিনি কিন্তু নিজেও আহত হন। আর সেই ভয়াবহ মুহূর্তটির বর্ণনা তিনি করেছেন।

তিনি বলেন, আমি আমার বাবাকে আর কাকাকে গুলি করতে দেখেছি জঙ্গিদের। তবে সে সময় আশেপাশে কিন্তু কোনও নিরাপত্তা রক্ষী ছিল না। তিনি এও বলেন, যখন প্রচুর পর্যটক এখানকার সৌন্দর্য উপভোগ করছিলেন ঠিক সে সময় পাহাড়ের উপর থেকে ঢাল হয়ে গুলি চালানো শুরু হয়। আর জঙ্গিরা সেসময় পুলিশের পোশাক পরেছিল। তারা বলে, পর্যটকেদের সরকার তারা তাদের ধর্মকে অসম্মান করেছে। আর এই অভিযোগ বারবার করছে তারা। চিৎকার করে বলতে থাকে আমরাই নাকি তাদের যন্ত্রণার কারণ!

আশাবরী দেবী বলেন, আমার বাবাকে ওরা তাদের ধর্মীয় কোনও কিছু পড়াতে বাধ্য করে। কিন্তু আমার বাবা তা পড়তে দ্বিধা বোধ করেন। জঙ্গিরা বেছে বেছে ধর্ম নিয়েই জিজ্ঞাসা করছিল। আর তারপরেই তারা গুলি চালাতে শুরু করে।

তিনি জানান, রুটের প্রতিটি চেক পয়েন্টে পুলিশ থাকার সত্বেও কিন্তু সেখানে তারা গুলি চালাতে শুরু করে। যে সময় সেখানে পর্যটকেদের সুরক্ষার প্রয়োজন ছিল অর্থাৎ নিরাপত্তা কর্মীর দরকার ছিল সে সময় সেখানে কেউ ছিলেন না। তিনি বলেন, আমরা তাঁদের ধর্মের নয় বলেই তারা আমাদের পরিবার, প্রিয়জনের ওপর হামলা করেছে, গুলি চালিয়েছে। এই আক্রমণটি কোনও পরিবারকে লক্ষ্য করে করা হয়নি।

পুনের আরেক দম্পতি কিন্তু এই অত্যাচারের শিকার হয়েছে। যারা সেই সময় পহেলগাঁওয়ের সৌন্দর্য উপভোগ করার সময় ঘোড়ায় চড়ছিলেন। আর সেই সময়েই সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। গুলি চালানোর আগে তাদের নাম পর্যন্ত জিজ্ঞাসা করে। কৌস্তুভ নামের এক ব্যক্তি আহত হন, পরে মারাও যান। তবে তার স্ত্রী সঙ্গীতা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। আর এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী মুরলীধর মহল জানিয়েছেন, পুনের দুটি পরিবার এই হামলায় আটকে পড়েছেন। তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। মহিলাদেরকে নিরাপদে রেখেছি। শীঘ্রই যাতে তারা পুণেতে ফিরে আসতে পারেন, সেই ব্যবস্থাই করা হচ্ছে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+