দুই আসনে দল এক, প্রতীক এক, মনোনয়ন দুই! যোগী রাজ্যে অভ্যন্তরীণ বিবাদে জর্জরিত সমাজবাদী পার্টি
দীর্ঘদিন রাজ্যে ক্ষমতায় নেই দল। লোকসভায় আসন সংখ্যাও নগন্য। তারপরেও লোকসভা নির্বাচনের আগে উত্তর প্রদেশে সমাজবাদী পার্টিতে অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা আর বিদ্রোহ তুঙ্গে। রামপুর ও মোরাদাবাদ আসনে দুটি করে মনোনয়ন দাখিলের পরে দলের অভ্যন্তরে উত্তেজনা তুঙ্গে। সরকারি প্রার্থী কে তা স্পষ্ট না হওয়ায় স্থানীয় নেতা ও কর্মীরা বিভ্রান্তিতে পড়েছেন।
দেরিতে হলেও সমাজবাদী পার্টির তরফে জানানো হয়েছে, রামপুর থেকে মওলানা মুহিবুল্লাহ নদভি এবং মোরাদাবাদ থেকে রুচি ভিরা অনুমোদিত প্রার্থী। মওলানা মুহিবুল্লাহ নদভি দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট জামে মসজিদের ইমাম। এব্যাপারে মোরাদাবাদে বিতর্ক দূর হলেও রামপুর নিয়ে সমস্যা রয়েই গিয়েছে।

মঙ্গলবার মোরাদাবাদ আসন থেকে বর্তমান এসটি হাসান দলের প্রতীক-সহ মনোনয়ন জমা দেন। অন্যদিকে রামপুর থেকে আজম খানের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত অসীম রাজা মনোনয়ন জমা দেন। কিন্তু নদভিকে প্রার্থী করায় অসীম রাজা বিদ্রোহ করে মনোনয়ন জমা দেন।
- মোরাদাবাদ
তবে দলীয় কর্মী সমর্থকদের সামনে বিষয়টি নিয়ে দ্রুত বার্তা দিতে চেষ্টা করে সমাজবাদী পার্টি। এসটি হাসান জানান, তিনি প্রার্থী পদ প্রত্যাহার করে নেবেন। তার আগে রুচি ভিরা দাবি করেন, তিনি সমাজবাদী পার্টি হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এসটি হাসানের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি দলের নেতৃত্ব বলতে পারবে। এসটি হাসানকে বড়ভাই বলেও বর্ণনা করেন তিনি। এই রুচি ভিরাকে আজম খানের ঘনিষ্ঠ বলেই মনে করেন দলের কর্মী-সমর্থকরা।
- রামপুর
রামপুর আসনে অসীম রাজার মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য নেমেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক শিবপাল সিং যাদব। তিনি সীতাপুর জেলে আজম খানের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি সম্পর্কে কথা বলবেন বলে জানা গিয়েছে। তবে আজম খান রাজি না হলে রামপুরে সমাজবাদী পার্টির অভ্যন্তরে সমস্যা বাড়বে।
রামপুরের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেশ করা মওলানা মুহিবুল্লাহ নদভি সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন, তিনিই দলের অনুমোদিত প্রার্থী। দলের সভাপতি অখিলেশ যাদব তাঁকে পাঠিয়েছেন। আজম খানও তাঁর প্রতি সহানুভূতিশীল বলে দাবি করেছেন তিনি। ফলে দুই প্রার্থী নিজেদের প্রকৃত প্রার্থী বলে দাবি করেছেন।
অসীম রাজা বলেছেন, তাঁরা সমাজবাদী পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। নির্বাচনে কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, সে ব্যাপারে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রসঙ্গত রামপুর ও মোরাদাবাদে ভোট হতে চলেছে ১৯ এপ্রিল।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন গত প্রায় চার দশক ধরে রামপুর আজম খানের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। তিনি ১০ বারের বিধায়ক এবং একবার লোকসভাতেও জেতেন। ২০১৯-এ জিতলেও ২০২২-এ আজম খান সাংসদ পদ ত্যাগ করায় হওয়া উপনির্বাচনে বিজেপি জয়ী হয়।












Click it and Unblock the Notifications