বন্দে মাতরম এর মর্যাদা বাড়াতে উদ্যোগ কেন্দ্রীয় সরকারের, জাতীয় সঙ্গীতের মতোই হবে প্রোটোকল?
স্বাধীনতা আন্দোলনের আবেগে ভেজা বন্দে মাতরম কে এবার আরও বড় মর্যাদা দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে কেন্দ্র। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ডাকে সদ্য এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জাতীয় সঙ্গীত 'জন গণ মন' এর মতোই কি জাতীয় গান 'বন্দে মাতরম' এর জন্য কোনও নির্দিষ্ট বিধি, শৃঙ্খলা বা আইনি নির্দেশ তৈরি করা দরকার?
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কলমে ১৮৭০ এর দশকে জন্ম নেওয়া 'বন্দে মাতরম' সুর তুলেছিল স্বদেশি আন্দোলনের সময়। ১৯০৫ থেকে ২০০৮ এর সেই আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠা গানটি স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতি হিসেবে এখনও জাতীয় আবেগ জাগিয়ে রাখে।

সরকারিভাবে জানা গেছে, বৈঠকে আলোচনা হয়েছে কখন গানটি পরিবেশিত হবে, জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে একসঙ্গে গাওয়া যায় কি না, ও অবমাননার ক্ষেত্রে কোনও আইনগত শাস্তির বিধান করা উচিত কি না।
বর্তমানে জাতীয় সঙ্গীতের ক্ষেত্রে যেমন সুস্পষ্ট আইন ও প্রটোকল রয়েছে, জাতীয় গানের ক্ষেত্রে তেমন কিছু নেই। ফলে গানটির 'সম্মান রক্ষায়' নীতিগত ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির কথাই ভাবছে কেন্দ্র।
এই উদ্যোগের মাঝেই 'বন্দে মাতরম' উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালা চালু করেছে সরকার। প্রথম ধাপ শেষ হয়েছে গত নভেম্বর, দ্বিতীয় চলছে জানুয়ারিতে। ২০২৬ এর অগাস্ট ও নভেম্বর মাসে হবে তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপ।
বিজেপির অভিযোগ, কংগ্রেস গানটির কিছু অংশ ১৯৩৭ সালে বাদ দেওয়ায় 'বন্দে মাতরম' এর গুরুত্ব কমে যায়। ওই বিতর্ক নতুন করে সামনে এল এই উদ্যোগকে ঘিরে।
অন্যদিকে আইনি দিকেও আলোচনার জায়গা রয়েছে। ২০২২ সালে কেন্দ্র সুপ্রিম কোর্টে জানায়, 'জন গণ মন' এর মতো ১৯৭১ সালের 'প্রিভেনশন অফ ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার অ্যাক্ট' এ 'বন্দে মাতরম' নিয়ে কোনও শাস্তিমূলক বিধান নেই। কবে কোথায় গানটি গাওয়া যাবে, সে নির্দেশও নেই।
সংবিধানের ৫১এ(এ) অনুচ্ছেদে জাতীয় সঙ্গীতকে সম্মান জানানো নাগরিকের 'দায়িত্ব' হিসেবে উল্লেখ থাকলেও জাতীয় গানের ক্ষেত্রে কোনও নির্দেশ স্পষ্ট নয়। ফলে সরকার চাইছে সাংবিধানিক মর্যাদা, প্রোটোকল ও সম্মানের জায়গায় যেন দুই প্রতীকই একইভাবে অবস্থান করে।
এখন দেখার, বন্দে মাতরম কি সত্যিই জাতীয় সঙ্গীতের সমান প্রোটোকল লাভ করে নাকি বিতর্কই হয়ে ওঠে নতুন জাতীয় আলোচনার বিষয়।












Click it and Unblock the Notifications