তিরুপতি থেকে মহাকুম্ভ, পদপিষ্টের আতঙ্ক, দেশে মৃত ১২৭
চলতি বছরে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, উৎসব ও জনসমাবেশে ভিড়ের চাপে বারবার রক্তাক্ত হয়েছে ভারত। তিরুপতির মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভ, রেলস্টেশন থেকে রাজনৈতিক সভা একের পর এক পদপিষ্টের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১২৭ জন। পরিকল্পনার ঘাটতি, অতিরিক্ত ভিড় ও হঠাৎ আতঙ্কই বারবার বিপর্যয়ের কারণ হয়ে উঠেছে।
৮ জানুয়ারি বৈকুণ্ঠ দ্বার সর্বদর্শনের টোকেন বিতরণের সময় অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে ছয়জন পুণ্যার্থী মারা যান। গেট হঠাৎ খুলে যাওয়ায় ছড়ায় আতঙ্ক। নিহতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ও চাকরির ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু।

২৯ জানুয়ারি মৌনী অমাবস্যায় প্রয়াগরাজের সঙ্গমে পবিত্র স্নানের সময় পদপিষ্টে প্রাণ হারান প্রায় ৩০ জন, আহত হন ৬০-র বেশি। ভাঙা ব্যারিকেড, সংকীর্ণ পথ ও ভিআইপি চলাচলের জটিলতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। নিহতদের মধ্যে বহু নারী ও শিশু ছিলেন।
নয়াদিল্লি রেলস্টেশনে ফেব্রুয়ারিতে মহাকুম্ভগামী ট্রেন দেরিতে চলায় ১৪ ও ১৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ভিড় চরমে ওঠে। হঠাৎ ধাক্কাধাক্কিতে মারা যান ১৮ জন যার মধ্যে ১১ জন নারী ও পাঁচটি শিশু।
গোয়া, শিরগাঁওতে
মে মাসে শ্রী দেবী লায়রাই মন্দিরের বার্ষিক যাত্রায় পদপিষ্টে মৃত্যু হয় ছ'জনের, আহত হন ৫০ এর বেশি। হাজার হাজার ভক্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।
বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম
জুনে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর প্রথম আইপিএল ট্রফি জয়ের শোভাযাত্রায় শেষ মুহূর্তে রুট বদল ও ভিড়ের হিসেব ভুল হওয়ায় ১১ জনের মৃত্যু, আহত ৪৭হয়েছিল।
উত্তরাখণ্ডে জুলাইয়ে মানসা দেবী মন্দিরের সিঁড়িতে হঠাৎ ভিড় বাড়তেই ছয়জনের মৃত্যু হয়। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও রক্ষা করা যায়নি।
তামিলনাড়ুতে
সেপ্টেম্বরে অভিনেতা রাজনীতিক বিজয়ের টিভিকে সমাবেশে প্রত্যাশিত ১০ হাজারের বদলে প্রায় তিনগুণ ভিড় জমে। মঞ্চে পৌঁছনোর দেরিতে ধাক্কাধাক্কি শুরু হলে ৪১ জন মারা যান, আহত হন ৫০ এর বেশি। ঘটনাকে 'মানবসৃষ্ট বিশাল বিপর্যয়' বলে মন্তব্য করে হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়।
অন্ধ্রপ্রদেশে শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর স্বামী মন্দির নভেম্বরে একাদশী উপলক্ষে ভিড়ের চাপে দুর্বল রেলিং ও অস্থায়ী ব্যারিকেড ভেঙে পড়ে। মৃত্যু হয় নয়জনের। পর্যাপ্ত অনুমতি ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের অভাব সামনে আসতেই শুরু হয় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত।
এক বছরের পর এক মর্মান্তিক ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে ভিড় সামলানোর প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা ছাড়া বড় সমাবেশ মানেই বিপদ। প্রশ্ন উঠছে, ভবিষ্যতে এই প্রাণহানি ঠেকাতে আদৌ কি শিক্ষা নেওয়া হবে?












Click it and Unblock the Notifications