তিরুপতির বিতর্কিত লাড্ডু পৌঁছে গিয়েছিল রাম মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানেও!
তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানমের লাড্ডু বিতর্ক দক্ষিণ ভারত ছাড়িয়ে এবার পৌঁছে গেল ভারতের অন্য রাজ্যেও। যে লাড্ডু প্রসাদ হিসেবে মাসে অন্তত এক কোটির বেশি তৈরি হয় এবং বিতরণ করা হয়, তার পবিত্রতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।
পিটিআইয়ের খবর অনুসারে, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ওয়াইএস জগন্মোহন রেড্ডি এই লাড্ডু প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য বিশিষ্টদের উপহার হিসেবে দিয়েছেন। গত পাঁচ বছরে তিনি যতবার দিল্লি গিয়েছেন, এই লাড্ডু প্রধানমন্ত্রীর জন্য নিয়ে গিয়েছেন। এমনকী এই বছরের শুরুতে রাম মন্দিরের প্রাণপ্রতিষ্ঠা উৎসবের সময়ও এক লক্ষ লাড্ডু অযোধ্যায় পাঠানো হয়।

অযোধ্যা রাম মন্দিরের প্রধান পুরোহিত আচার্য সত্যেন্দ্র দাস এই ঘটনা শোনার পর রীতিমতো আতঙ্কিত। যদি প্রসাদী লাড্ডুতে পশুর চর্বি মেশানো হয়ে থাকে, তাহলে তা ক্ষমার অযোগ্য। যারা এর সঙ্গে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ভগবানকে নিবেদনে যদি এই ধরনের ঘটনা ঘটানো হয় তাহলে তা হিন্দু বিশ্বাসের বিরোধী। অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এই বিতর্কের মধ্যে জগন্মোহন রেড্ডি এই অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন। এবং এর মধ্যে রাজনীতি আছে বলে বিপক্ষের নেতা তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডুকে দোষারোপ করেছেন। একটি অসত্য ঘটনাকে রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার জন্য জনসম্মুখে আনা হয়েছে বলেও অভিযোগ জগন্মোহনের।
প্রসঙ্গত, অন্ধপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু এই ঘটনাটি সামনে আনেন এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস জগন্মোহনের প্রশাসনিককালে নিম্নমানের ঘি যাতে পশুর চর্বি মেলানো রয়েছে, তা লাড্ডু তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। পরে ল্যাবরেটরি রিপোর্টেও দেখা যায় চন্দ্রবাবুর অভিযোগের সত্যতা রয়েছে। মন্দিরে ঘি জোগানের দায়িত্বে যে সংস্থা ছিল, তাদের ইতিমধ্যে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই বিতর্ক কানে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্র সরকার। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের কাছে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চেয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে ইতিমধ্যে কেন্দ্রকে আশ্বাস দিয়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications