পাঞ্জাবের পাল্টা এবার চণ্ডীগড়ের উপর দাবি জানিয়ে রেজোলিউশন পাস হরিয়ানার
সম্প্রতি পাঞ্জাব বিধানসভায় রেজোলিউশন পাস করে চণ্ডীগড়কে পাঞ্জাবের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান। এবার তার পাল্টা হরিয়ানা বিধানসভায় রেজোলিউশন পাস করে চণ্ডীগড়ের অধিকার দাবি করলেন মনোহর খট্টর৷

খট্টরের রেজোলিউশনে দাবি করা হয়েছে যে পাঞ্জাবের পুনর্গঠন থেকে উদ্ভূত সমস্ত সমস্যা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার এমন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া উচিৎ নয় যা দুটি রাজ্যের মধ্যে ভারসাম্যকে বিঘ্নিত করবে। দুটি রাজ্যের সম্প্রীতি নষ্ট হবে এমন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয় কেন্দ্রের। খট্টর পাঞ্জাব পুনর্গঠন আইন ১৯৬৬-র ধারা ৩-এর বিধানগুলিও তুলে ধরেছেন৷ যার মাধ্যমে হরিয়ানা রাজ্যটি গঠন করা হয়েছে৷ ১৯৬৬ সালে হিন্দিভাষী এলাকা নিয়ে হরিয়ানাকে পাঞ্জাব থেকে আলাদা করা হয় এবং পাঞ্জাব ও হরিয়ানার যৌথ রাজধানী হয় চণ্ডীগড়৷ যা আদপে একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলও বটে।
পাঞ্জাব বিধানসভা গত শুক্রবার চণ্ডীগড়কে পাঞ্জাবের কাছে হস্তান্তরিত করার জন্য একটি প্রস্তাব পাস করেছে, যেখানে আম আদমী পার্টির সরকারের রেজোলিউশনে বলা হয়েছে, চণ্ডীগড় শহরকে পাঞ্জাবের রাজধানী হিসাবে তৈরি করা হয়েছিল। অতীতের সমস্ত নজিরগুলি এটাই বলে যে যখনই, একটি রাজ্য বিভক্ত হয়েছে, রাজধানীটি মূল রাজ্যের সঙ্গেই রয়ে গিয়েছে। এই রেজোলিউশনটি পাঞ্জাবের দুজন বিজেপি বিধায়কের অনুপস্থিতিতে বিধানসভায় পাস হয়েছিল। বিজেপি বিধায়করা এর আগেই ওয়াকআউট করেছিলেন।
তবে শুধু খট্টরই নয় সঙ্গে হরিয়ানার রাজনৈতিক দলগুলিও পাঞ্জাবের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। মঙ্গলবার খট্টার রেজোলিউশনটিতে সুপ্রিম কোর্টের সম্মতিতে এসওয়াইএল খাল নির্মাণের জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে। হরিয়ানার পক্ষ থেকে নেওয়া রেজোলিউশনে বলা হয়েছে এসওয়াইএল খাল নির্মাণের মাধ্যমে রবি এবং বিপাশা নদীর জল ভাগাভাগি করার অধিকার রয়েছে হরিয়ানার।
অন্যদিকে, হরিয়ানার বিরোধীদল নেতা ভূপিন্দর সিং হুডা পাঞ্জাবে আমআদমী পার্টির এই জাতীয় প্রস্তাব পাস করার অভিপ্রায় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং এটিকে ' রাজনৈতিক জুমলা', বলে অভিহিত করেছেন যার কোনও অর্থ নেই। পাঞ্জাবের এই ধরনের অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ নিয়ে দুই রাজ্যের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ব্যাহত করা উচিত নয় বলে খট্টরের সুরেই কথা বলেছেন হুডা। চণ্ডীগড় হরিয়ানারও অন্তর্গত এবং চণ্ডীগড় প্রশাসনে পাঞ্জাব ও হরিয়ানার ৬০:৪০ প্রতিনিধিত্ব রয়েছে উল্লেখ করে, হুডা বলেছেন, যে রাজ্যের সমস্ত রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবেশী রাজ্যের সঙ্গের এই অনুচিত দাবির বিরুদ্ধে লড়াই করবে। তিনি মুখ্যমন্ত্রী খট্টরকে পাঞ্জাবের অনৈতিক দাবির বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন৷












Click it and Unblock the Notifications