নিশানায় 'ম্যাচ ফিক্সিং করা' PM মোদী! এই নির্বাচন গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই, দিল্লিতে বললেন রাহুল গান্ধী
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধীদের মেগা সমাবেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে প্রত্যাশা মতোই নিশানা করলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী লোকসভা নির্বাচনের ম্যাচটি মুষ্টিমেয় ধনকুবেরদের সহায়তায় ফিক্সিং করেছেন।
রাহুল গান্ধী বলেছেন, চারশো পার, স্লোগান ম্যাচ ফিক্সিং ছাড়া সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী চারশো পার হওয়ার জন্য আম্পায়ারও বেছে নিয়েছেন। এদিন বিরোধীদলের শক্তিপ্রদর্শনের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধী, দিল্লি মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের স্ত্রী সুনিতা কেজরিওয়াল এবং ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের স্ত্রী কল্পনা সোরেন। প্রসঙ্গত হেমন্ত সোরেন ও অরবিন্দ কেজরিওয়াল, দুইজনকেই গ্রেফতার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।

রাহুল গান্ধী এদিন বলেছেন, ইভিএম, ম্যাচ ফিক্সিং, সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রেসকে চাপ দেওয়া ছাড়া বিজেপি ১৮০-র বেশি আসন জিততে পারে না। তিনি বলেন, ক্রিকেট ম্যাচে আম্পায়ারদের চাপ দেওয়া হয়, অধিনায়কদের ম্যাচ ছাড়তে চাপ দেওয়া হয়, ক্রিকেটে এটাকে বলা হয় ম্যাচ ফিক্সিং। ঠিক তেমনই লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী দুই আম্পায়ার বেছে নিয়েছেন আর ম্যাচের আগেই খেলোয়াড়দের গ্রেফতার করা হয়েছে।
দিল্লির রামলীলা ময়দানে রাহুল গান্ধী বলেছেন, এই নির্বাচন সংবিধান, গণতন্ত্র বাঁচানোর লড়াই। যদি সাধারণ মানুষ ন্যায় বিচারের সঙ্গে ভোট না দেন, তাহলে ম্যাচ ফিক্সাররা জিতবে বলেও মন্তব্য করেছেন রাহুল। তিনি এদিনের সমাবেশে কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের মাঝখানে সব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
রাহুল গান্ধী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী চান না বিরোধীরা নির্বাচনে লড়াই করুক। সেই জন্য তিনি নির্বাচনেক ঠিক আগে দুই মুখ্যমন্ত্রীকে জেলে পাঠিয়েছেন। এটা তিনি ছয় মাস আগে কিংবা পরে করতে পারতেন বলেও মন্তব্য করেন রাহুল গান্ধী।
রাহুল গান্ধী বলেছেন, এক বিজেপির নেতা বলেছিলেন, বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে সংবিধান পরিবর্তন করা হবে। এটা কোনও মুখ ফসকে যাওয়া কথা নয়। তিনি বলেন, সংবিধান হল জনগণের কণ্ঠস্বর। যেদিন তার পরিবর্তন হবে, সেদিন দেশ শেষ হয়ে যাবে।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে ইডি গ্রেফতার করে গত ২১ মার্চ। তারপরেই ইন্ডিয়া ব্লকের দলগুলি একত্রিত হয়ে এদিন ঐক্যের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করে। এদিনের সভায় কংগ্রেস ছাড়াও ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা, আপ, পিডিপি, শিবসেনা উদ্ধর ঠাকরে গোষ্ঠী, সমাজবাদী পার্টি ও এনসিপি শারদ পাওয়ার গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।












Click it and Unblock the Notifications